মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত দেশব্যাপী ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময়ে ইলিশ ধরা ছাড়াও পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ ছিল।
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। এ অঞ্চলের নিবন্ধিত প্রায় ৫৪ হাজার জেলে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে মাছঘাটগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। জেলেরা মাছ ধরার জাল মেরামত, নৌকা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবারও মাছ আহরণ শুরু করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের আশা করছেন তাঁরা।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে জেলেদের আটক, জরিমানা এবং নিষিদ্ধ জাল ও নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া এ উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের প্রাপ্যতা ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর নদীতে ইলিশের পরিমাণ কেমন হবে, তা নির্ভর করবে মাছের প্রাপ্যতা, প্রজনন পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক অবস্থার ওপর।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ঢাকা টাইমস ও আজকের পত্রিকা।