যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (এসআই) ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রযুক্তিটির বর্তমান সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘এআই’ শব্দটি যথাযথ নয় বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ বিষয়ে আবারও অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ ‘এআই’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা করেন। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও অন্যান্য উপকরণে শব্দটির ব্যবহার বন্ধ করার কথা জানান তিনি।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন, নীতিপত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নথিতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ট্রাম্পের যুক্তি, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটির প্রকৃত সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না। তাঁর মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরও ভালোভাবে প্রকাশ করে।
এ উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নথিপত্র ও যোগাযোগমাধ্যমে নতুন পরিভাষা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে সরকারি নথির বাইরে সংবাদমাধ্যম, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে শব্দটির ব্যবহার বন্ধ করার কোনো নির্দেশনা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
প্রযুক্তি খাতে নতুন পরিভাষা চালুর এ উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, শুধু নাম পরিবর্তন করলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান হবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আগে থেকেই বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাধারণভাবে এটি এমন সম্ভাব্য বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়, যা বিভিন্ন জ্ঞানীয় কাজে মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে একই পরিভাষা ব্যবহারের উদ্যোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য ন্যাশনাল, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য।