বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
অনুমোদিত বন্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকার অধীনস্থ বন্ড, ব্যাংক এশিয়ার ৮০০ কোটি টাকার টেকসই অধীনস্থ বন্ড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার অধীনস্থ বন্ড এবং ওয়ান ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার অধীনস্থ বন্ড।
এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের বন্ডটি তিন বছর মেয়াদি শূন্য-কুপন গ্রিন বন্ড। অন্য চারটি ব্যাংকের বন্ডের মেয়াদ সাত বছর। এসব বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ড থেকে পাওয়া অর্থ পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে ব্যবহারের কথা রয়েছে।
পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করতে শুধু শেয়ারনির্ভর বিনিয়োগের পরিবর্তে বন্ডসহ বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএসইসি। এ লক্ষ্যে অনুমোদিত বন্ড স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্ডের তালিকাভুক্তি ফি কমানো এবং ইস্যু প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বাসসকে জানান, বন্ডগুলো স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। এতে বন্ডের দ্বিতীয় বাজারে লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগের তারল্যও উন্নত হতে পারে।
বন্ডবাজারে বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নের মতো লক্ষ্যভিত্তিক বন্ড চালুর উদ্যোগও নিয়েছে কমিশন। এর অংশ হিসেবে সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১৫৮ কোটি টাকার ‘অরেঞ্জ বন্ড’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বন্ডের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড, পেনশন তহবিল, বীমা কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বন্ডবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন।
বিশ্লেষকদের মতে, বন্ডবাজারের বিকাশ ঘটলে ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত ঋণব্যবস্থার পাশাপাশি পুঁজিবাজার থেকেও দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের বাইরে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হবে।
তবে বন্ডবাজারের প্রকৃত গতিশীলতা নির্ভর করবে নিয়মিত লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ওপর। অনুমোদিত বন্ডগুলো বাজারে কার্যকরভাবে লেনদেন হলে দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগের পরিধি সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও যুগান্তর।