ভাঙ্গুড়ায় সার মজুতের অভিযোগে গভীর রাতে গুদাম ঘেরা করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কৃষকজনতা
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা :
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে আজ বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতৃত্বে কৃষক জনতা ডিলারদের গুদাম ঘিরে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাত সাড়ে এগারোটায় কৃষি অফিসার শারমিন জাহান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন । উত্তেজিত জনতার দাবির মুখে গুদাম খুলে সার প্রদর্শনের আগে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিউল আজম,সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান ঘটনাস্থলে পৌছেন।
অবশেষে উপজেলা কৃষি অফিসার গুদাম খুলে সার প্রদর্শন করতে বাধ্য হন ।
সরেজমিন দেখা যায়,প্রাক্তন কয়েকজন স্যার ডিলারের ঘরে ২/৩ হাজার ব্যাগ সার মজুত রয়েছে । এরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ।
ক্ষিপ্ত জনতা তৎক্ষণাৎ সার বিতরণের দাবী জানালে উপজেলা কৃষি অফিসার জানান ,উপজেলার খান মরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়নে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি । তাই
এগুলো ক্রাইসিস মোকাবেলার জন্য রাখা হয়েছে । প্রকৃতপক্ষে এইসব সার ডিলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই সারগুলো বেশি দামে বিক্রির জন্য মজুত রাখা হয়েছে বলে ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন ।
ছাত্রদলের সভাপতি মুন ও সাধারণ সম্পাদক লিখন সরকার ও ছাত্রদল নেতা সেলিম খান
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান । তারা দাবি করেন এলাকার কৃষকরা সার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন । সেখানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার বিরোধী গোষ্ঠী ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে ।
আর তাদের সহযোগিতা করছেন কৃষি অফিসার এবং সার মনিটরিং কমিটির সদস্যরা । তারা পরিকল্পিতভাবে এই সারগুলো মজুত রাখতেও সহায়তা করেছেন ।
উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন জাহান বলেন,খান মরিচ এবং দিলপাশার ইউনিয়নে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকায় প্রয়োজনের সময় এগুলো বিতরণের জন্য মজুত রাখা হয়েছে ।
তখন উত্তেজিত আবার জনতা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অফিসার ইনচার্জ সাকিউল আজম বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি সভা আহ্বান করেন । তারপর সেখানে যে সিদ্ধান্ত হবে সে অনুযায়ী সার বিতরণ করা হবে বলে জানান। এরপরও রাত বারোটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং সবগুলো সারের গুদাম খুলে তল্লাশির জন্য দাবি জানাচ্ছেন।।