আর মাত্র একদিন পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল জুলফিকার আলম জিল্লুরের (২৬)। বাড়িজুড়ে তখন আনন্দের জোয়ার—রঙিন আলোকসজ্জা, আত্মীয়-স্বজনের কোলাহল, হাসি-আনন্দে মুখরিত চারদিক। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সব আলো নিভিয়ে দিল, উৎসবের সেই ঘরকে পরিণত করল শোকের নীরব অন্ধকারে।
রোববার সকালে পাবনা-নাটোর মহাসড়কের নাটোর জেলার গড়মাটি কলোনি এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্বপ্নভরা এই তরুণ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবারই ছিল তার বিয়ের দিন। জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে নিজেই বড় ভাই রফিকুল ইসলামের প্রাইভেটকার চালিয়ে নাটোরের বনপাড়ায় যাচ্ছিলেন—গায়ে হলুদের শাড়ি বোনের বাড়িতে পৌঁছে দিতে, আর বউভাত অনুষ্ঠানের দইয়ের জন্য দুধ কেনার পরিকল্পনাও ছিল তার। কত স্বপ্ন, কত পরিকল্পনা—সবই ছিল সামনে।
কিন্তু গড়মাটি মোড়ে পৌঁছাতেই ঘটে বিপর্যয়। কয়েকটি ট্রাক ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সড়কের পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা খায়। মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়ি, আর থেমে যায় এক তরতাজা প্রাণের স্পন্দন।
বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, দ্রুতগতির গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলো অতিক্রম করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়, এবং গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, ছয় মাস আগেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত এক ছাত্রীর সঙ্গে তার বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছিল। ঈদের তৃতীয় দিনে বউভাতের আয়োজন করে আনুষ্ঠানিকভাবে নববধূকে ঘরে তোলার কথা ছিল। রোববার সন্ধ্যায় হওয়ার কথা ছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান—যেখানে থাকার কথা ছিল হাসি, গান আর রঙের উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই রঙ আজ মুছে গেছে চোখের জলে।