পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য নেওয়া সাড়ে তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্প এক যুগ পেরিয়ে গেলেও চালু করা সম্ভব হয়নি। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্পটি এখন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে, অথচ এর জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ছয়জন কর্মচারীকে এখনো নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে পৌরসভাকে। এতে বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে, আর পৌরবাসী বঞ্চিত হচ্ছে নাগরিক সুবিধা থেকে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ‘পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের আওতায় ২০১০-১১ অর্থবছরে এই প্রকল্প হাতে নেয়। ২০১২ সালে ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার পানির লাইন, চারটি গভীর নলকূপ, পাম্প হাউজ, সারফেস ড্রেন ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়। ২০১৩ সালে প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের পাইপ ব্যবহারের কারণে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পাম্প চালু করলেই পানির চাপে পাইপগুলো ফেটে যায়।
জানা গেছে, তৎকালীন পাবনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান পৌরসভার তৎকালীন মেয়র আব্দুর রহমানকে ম্যানেজ করে প্রকল্পটিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে এই দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।
প্রকল্পটি চালু না হলেও সে সময় চারজন পাম্প চালক, একজন মেকানিক ও একজন বিল ক্লার্ককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাম্প হাউজগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও এসব কর্মচারীকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে। এতে করে পৌরসভার বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
পৌরশহরের শরৎনগর বাজারের বাসিন্দা এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, “সরকারের সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ হলেও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্প থেকে কোনো পানি সরবরাহ করা যায়নি। সংশ্লিষ্টরা কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না। এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি তখন এখানে কর্মরত ছিলাম না। তবে শুনেছি, নিম্নমানের পাইপলাইনের কারণেই প্রকল্পটি থেকে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।”
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানান, এই প্রকল্পের কোনো কাগজপত্র তার অফিসে নেই, তবে তিনি অনিয়ম হয়েছে বলে শুনেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোছা. নাজমুন নাহার বলেন, “অনিয়মের কারণে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই ছয় কর্মচারীকে দিয়ে পৌরসভার অন্যান্য কাজ করানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, পাম্প হাউজগুলো সংস্কারের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, সেই সক্ষমতা পৌরসভার নেই।