দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের এক সাবেক কর্মকর্তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন পাবনার বিশেষ জজ আদালত। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা ৯ লাখ ২৪ হাজার ৮ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই ব্যাংক কর্মকর্তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মো. সালাহ্উদ্দিন খাঁ এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের বিশেষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট শাখার সাবেক সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গুয়াগাঁতী গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আব্দুল খালেক।
মামলার অপর দুই আসামি একই শাখার সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের ভদ্রঘাট শাখায় দায়িত্ব পালনকালে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি ও ভুয়া ঋণ বিতরণের তথ্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা কালেকশন শিটে অন্তর্ভুক্ত না করে ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
এ ঘটনায় দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন। মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন দুদকের বিশেষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস।