বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আর্থিক খাত পুরো অর্থনীতির ‘হৃদপিণ্ড’। তাই ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সরকারকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ব্যাংকিং খাতের অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় ব্যাংকিং খাতে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে ঋণখেলাপির প্রবণতা কমিয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিধিবিধান শিথিল হওয়ায় খাতটি আবারও সংকটে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রভাব কখনো কমে, কখনো বাড়ে। তবে এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে থেকেই যায়। রাজনৈতিক কারণে কোনো ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হলেও তা এমনভাবে করতে হবে, যাতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অন্যায্য সুবিধা বিতরণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ বিষয়ে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক বা ব্যাংকারদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা ও কার্যকর সিদ্ধান্তও প্রয়োজন।
সম্মেলনে অন্যান্য বক্তাও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা গেলে আমানতকারীদের আস্থা বাড়বে। পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: দৈনিক এদিন ও সমকাল।