এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই মুদ্রণের সম্মিলিত অগ্রগতি প্রায় ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার কাজে ধীরগতি থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এবার দেশের ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান ৬২৩টি লটে পাঠ্যবই ছাপানোর দায়িত্ব পেয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরে ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বই ছাপানো হয়েছে। অন্যদিকে ইবতেদায়ি স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ।
বই ছাপার কাজে ধীরগতির কারণে ইতোমধ্যে ৩২টি ছাপাখানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।
বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির সমন্বয়ে ৫৩টি পর্যবেক্ষণ দল কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় ইতোমধ্যে ৩৬টি ছাপাখানার প্রায় ৯ লাখ ফর্মা এবং ১২ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ শেষ করতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা শ্রেণিগুলোর বইয়ের মুদ্রণ ত্বরান্বিত করতে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় বই হাতে পায়।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)