তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আজকে বিএনপি ও জোট নেতৃবৃন্দর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এই সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন দেশ নায়ক তারেক রহমান। তিনি বলেছেন এদেশে মিথ্যাচার ও চাঁদাবাজির জায়গা হবে না। এমনকি মিথ্যাচার এবং চাঁদাবাজ এর সাথে যদি সংসদ সদস্য কেউ জড়িয়ে যান তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।
কথিত আছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামীলীগ যখন পলাতক, তখন তাদের জায়গাগুলো দখল করেছে বিএনপি। তারেক রহমান লন্ডন থেকে বিএনপির কর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়ার পরও চাঁদাবাজ এবং মিথ্যাচারের দৌড়াম্ত কমেনি । এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় নির্বাচন । তারেক রহমান দেশে আসার পর নির্বাচনমুখী হয়ে পড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তবে তিনি যে তাদের হুশিয়ারি করবেন এবং এই সমস্ত কাজের নিন্দা ছাড়াও ব্যবস্থা নিবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।
আমরা বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করেছি, কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতিপয় দলীয় কর্মী সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ালেন । উল্লেখ্য ,পাবনা তিন এলাকার নির্বাচনের পরে ফলাফল ঘোষণা হলো, জামাতের প্রার্থী মাওলানা আলী আজগর নির্বাচিত হলেন। অথচ বিএনপির কিছু কর্মী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা প্রচার করলেন যে, এই নির্বাচন বাতিল হচ্ছে। পুনরায় ভোট গণনা করা হবে। বিএনপির প্রার্থী তুহিন সাহেব মন্ত্রী হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
ভাঙ্গুড়া কৃষক দলের এক নেতা পত্র পাঠ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালেন নির্বাচনের অনিয়মের কথা। আমরা যারা মাঠে পর্যবেক্ষক হিসাবে ছিলাম তাদের কাছে এরকম অনিয়ম কোথাও পরিলক্ষিত হয়নি। তাহলে তিনি এইভাবে অনিয়মের কথা তুলে ধরে কি বোঝাতে চাইলেন ! এতে তার ভাবমূর্তি কেমন হলো তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারেননি কিন্তু লোকমুখে এটা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চেয়েছেন।
পাবনা ৩ এ নির্বাচিত জামাতের অধ্যাপক মোঃ আলী আজগর একজন শিক্ষক, রাজনীতিক এবং নীতি-নৈতিকতায় উঁচু মানের একজন মানুষ। তিনি কখনো চাঁদাবাজের সাথে জড়িত ছিলেন না। ঘুষ-সুদের মুখাপেক্ষীও নন। এটা এখানকার ভোটাররা সবাই জানেন। তাকে সবাই বিশ্বাস করেছে। এখন এমপি হিসেবে এলাকায় কাজ শুরু করবেন নিশ্চয়ই তিনি চাঁদাবাজদের সংস্পর্শ ত্যাগ করেই চলবেন।
কেউ কেউ মনে করছেন মাওলানা আলী আজগর যেহেতু বিরোধী দলের এমপি সুতরাং রাজনৈতিক ক্ষমতাশীন বিএনপি’র নেত্রীবৃন্দ অথবা কর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে এমপির উপর দিয়ে কথা বলবেন এবং কর্তৃত্ব করবেন। আপাতত সেটা ভাবার কোন কারণ নেই। চাঁদাবাজ সে যেই হোক না কেন কারোই দাপট থাকবে না। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরে যারা দুর্নীতি করেন তারাও সতর্ক হবেন এই ভেবে যে, এমপি সাহেব ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশে ন্যায় ভিত্তিক, সততা, নির্ভীক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এজন্যই তিনি শপথ এর আগেই জামাতের আমীর ,এমসিপি নেতৃবৃন্দ সবার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সবাইকে সহযোগিতার যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তেমনি তাদেরও সহায়তা পাবার জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ফলে দেশে মিথ্যাচার এবং চাঁদাবাজদের যে জায়গা হবে না তা এখন নিশ্চিত করে বলা যায়। বিশেষ করে বিএনপির মধ্যে যারা লুকিয়ে রয়েছেন চাঁদাবাজের ছত্রছায়ায় ,তাদের ঠাঁই হবে না আর দলে ! আগামীতে প্রকৃত বিএনপি’র কর্মী যারা তারাই থাকবেন দলে। সেই সঙ্গে চাঁদাবাজ কর্মী বহিষ্কৃত হবেন একে একে।
আমরাও আশা করি শিক্ষক ,সাংবাদিক এবং সচেতন ব্যক্তিরা এই সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করা নবনির্বাচিত এমপি সাহেবের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সহযোগিতা করবেন। এলাকার কল্যাণে দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নকে তরান্বিত করার জন্য সবাই সচেষ্ট থাকবেন।