ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। পিছিয়ে নেই পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর)আসনের প্রার্থীরাও। তবে এই আসনে এবার সবার নজর কাড়ছে তিন ভাই-বোনের তিন মেরুতে অবস্থান। তিন ভাই-বোনই প্রচারনায় সরব। বড় ভাই নিজেই প্রাথী। আর বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অপর দুই ভাই-বোন। এনিয়েই সর্বত্র চলছে আলোচনা। কার পক্ষের প্রার্থী জয়লাভ করবে,তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা,তাঁর বড় ভাই জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হাসানুল ইসলাম রাজা ও তাঁর বোন ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এ্যাড.আরিফা সুলতানা রুমা। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করেই তিন ভাই-বোন তিন মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বড়ভাই জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা,বিশিষ্ট সমাজসেবক হাসানুল ইসলাম রাজা যোগ দেন গণঅধিকার পরিষদে। মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি নির্বচন করছেন ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী হয়ে। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে ব্যাপক প্রচার করেন তিনি।
এ অবস্থায় আসনটি থেকে কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র দল থেকে সদস্য বহিস্কৃত মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত সব আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে এসেছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীকে সংগঠিত করতে তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামের কারণে একাধিক মামলার শিকার হয়ে জেলে যেতে হয়েছে তাঁকে। তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচার চালালেও বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তিনি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য,সাবেক এমপি আলহাজ্ব কেএম আনোয়ারুল ইসলামের সাথে যৌথভাবে মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু বিএনপি তুহিনের দলীয় প্রার্থিতা বহাল রাখে। হীরা নিজে প্রাথী না হয়ে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেন।
তিনি আগামী নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। সমপ্রতি দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারনে তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এই দুই নেতার ছোট বোন ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমাও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। ছাত্রদলের সাবেক এই নেত্রী ঢাকায় আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে আওয়ামী সরকারের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাবাস করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দলীয় ঘোষিত সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছেন।
চাটমোহরের স্থানীয় রাজনীতিতেও তিনি ইতোমধ্যে একটি অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন। তিনি নির্বাচনে এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে মনোনয়ন দিলে রুমা তাকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপি দলীয় প্রার্থী তুহিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক হিসেবে পাবনা-৩ এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী ভোটারদের জাগরণে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছেন।