বিশেষ প্রতিনিধি : গতকাল বুধবার ৪ মার্চ ঢাকা থেকে রাজশাহী গামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন(৭৬৯) সকাল দশটার দিকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়ালব্রিজ স্টেশনে পৌঁছে। যাত্রীরা নামার চেষ্টা করলে ট্রেন হঠাৎ ছেড়ে দেয় ফলে অসংখ্য যাত্রী বড়ালব্রিজ রেল স্টেশনে নামতে পারেনি। কারণ হিসেবে এসি জ-বগীর যাত্রীরা জানান,অ্যাটেনডেন্ট দু’টি দরজার একটি বন্ধ করে রাখে। অপরটি দিয়ে নামতে গেলে তখন ট্রেনটি ছেড়ে দেয়। বিরতির সময় কাল ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। এরপর দরজার সামনে থেকে প্রচন্ড ভিড় সৃষ্টি করা হয়। ফলে এক দুইজন যাত্রী ছাড়া বেশিরভাগ যাত্রী ট্রেনের মধ্যেই থেকে যান। পরবর্তী চাটমোহর স্টেশনে তারা নামার সুযোগ পান ।
জ- বগি থেকে নামতে পারা বড়ালব্রীজ এলাকার বাসিন্দা অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল ও প্লাটফর্মে অপেক্ষমাণ মোহাম্মদ ওহাব আলী জানান , মাত্র ৪০ সেকেন্ড বিরতির সময়ে তিনি কোনভাবে তার স্ত্রীকে নিয়ে নামতে পেরেছিলেন কিন্তু ৫০ জন যাত্রী নামতেই পারেননি। তবে তাদের কারো ব্যাগ অথবা ছেলে-মেয়েদের কাউকে নামাতে পেরেছিলেন। আবার কারো স্রী নামতে পারেননি। আবার কারো বাচচা অথবা ব্যাগ থেকে গেছে ট্রেনে।
এ সময় বাচ্চাদের কান্নায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিভাবক যাত্রী নিজেরা নামতে না পেরে পরের স্টপেজ চাটমোহর স্টেশন থেকে নেমে অনেক কষ্টে তারা ভাঙ্গুড়ায় ফিরে আসেন।
এদিকে দরজার সামনে ভিড় তৈরি করে দুর্বৃত্তরা প্রত্যেক যাত্রীর পকেট থেকে মোবাইল ও টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা কেউ এসি বগির যাত্রী ছিলেন না। ট্রেনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা- কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীরা যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা প্রদানে সম্পুর্ন ব্যর্থ হন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীরা জানান,ধুমকেতু ট্রেনের ড্রাইভার,
পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট অ্যাটেনডেন্ট পরিকল্পিত ভাবে ঘটনাটি ঘটায় বলে তারা সন্দেহ করছেন।
এছাড়া যাত্রীদের চেঁচামেচি-চিৎকারের পরও গার্ড তা কর্ণপাত করেননি।
বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ নেয়া প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।