হাসিনুর রমমান,ভাঙ্গুড়া: পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার শরৎনগর গরু হাটে নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিক্রেতার কোনো প্রকার খাজনা নাই অথচ তাদের কাছেও হাসিল আদায় করা হয়। অন্যদিকে ক্রেতাদের নিকট থেকেও পৌরসভার রেটের চেয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন ক্রেতা- বিক্রেতা। ফলে তারা এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
সপ্তাহে শনিবার উপজেলার শরৎনগর পশুর হাট বসে। এখানে শত শত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কেনাবেচা হয়। আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও ব্যাপারী ও কৃষকরা পশু কেনাবেচনা করতে আসেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বড় গরু/মহিষ প্রতি ৬৫০ টাকা, ছোট গরু/মহিষ ৪৪০ টাকা, বড় ছাগল ৩০০ টাকা, ছোট ছাগল ২০০ টাকা এবং ভেড়ার জন্য ১৫০ টাকা খাজনা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু হাট ইজারাদারগন নির্ধারিত রেটের অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন দীর্ঘদিনের অভিযোগ। ছোট ও বড় গরু উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে ৬৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীরা জানান।
এছাড়া খাজনা আদায়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে রশিদে প্রকৃত টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের পক্ষে আবু নাইম নাসির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শরৎনগর গরু হাটে নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। গত কয়েকটি হাটে উপস্থিত হয়ে এর প্রতিবাদ করা হয় বলে তারা জনান। পৌর প্রশাসক সব জেনেও অজ্ঞাতকারণে নিরব থাকেন। অথচ এটা রীতিমতো চাঁদাবাজি। তাই খাজনা আদায়ের নামে এই
চাঁদাবাজি বন্ধ করতে ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে ।
হাটের ইজারাদার ফজলে আযিম বলেন, অতিরিক্ত খাজনা আদায় এখানে নতুন কোনো বিষয় নয়। এটি হাটের শুরু থেকেই চলে আসছিল। তবে আজ শনিবার হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে।
হাট ইজারাদারের প্রতিনিধি শামসুল আলম বলেন,অতিরিক্ত আদায়কৃত খাজনার ভাগ সংশ্লিষ্ট সবার পেটেই যায়। তাদের চাহিদা না থাকলে এমন কাজ করার প্রয়োজন হয় না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পৌর প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, ইজারাদারদের ডেকে নিয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।।