শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীর দিনে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহাসিক বড়াল ব্রিজ খেলার মাঠে তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলা ও দি বুলবুল জয়া সার্কাসের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে দিনটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রতিবছর এ দিনটি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দোয়া, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা এবং স্মরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে থাকে।
এ অবস্থায় শাহাদতবার্ষিকীর দিনেই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সার্কাস ও মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ‘অনভিপ্রেত’ বলে মন্তব্য করেছেন দলের কয়েকজন সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মতে, দিনটির গুরুত্ব বিবেচনায় নেতাদের স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল বা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বেশি সম্পৃক্ত থাকা উচিত ছিল।
স্থানীয় একাধিক বিএনপি সমর্থক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ দিনটিতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি প্রত্যাশিত ছিল। সেখানে সার্কাস উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মেলা ও সার্কাসের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারাও মেলায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় না দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার শাহাদতবার্ষিকীর দিনে দলীয় নেতাদের এমন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়েক আবু সায়েম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে মিলাদ বা দোয়া কর্মসূচি না করে এ ধরনের আয়োজন কেন করা হলো, তা তার বোধগম্য নয়। তিনি এটিকে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব বলেও মন্তব্য করেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন বলেন, আজকের দিনে (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী) সার্কাস উদ্বোধন কোনোভাবেই ঠিক কাজ হয়নি। উদ্বোধন একদিন আগে বা পরে করা যেত কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব কিছুই ভাড়া করা তাই উদ্বোধন করতেই হয়েছে।
পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, আজকের দিনে মিলাদ মাহফিল বা দোয়া মাহফিল হওয়া যৌক্তিক ছিল। শোকের দিনে মেলা বা আনন্দের কোনো কিছু হওয়া বিএনপি দলীয় কারো মাধ্যমে হওয়া কোনোভাবেই ঠিক না।
এ বিষয়ে জানতে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।