ভাঙ্গুড়ার বুলবুলি ঘোষ ৬৯ বছর বয়সেও পাননি বীরাঙ্গনা নারীর স্বীকৃতি !
ভাঙ্গুড়া(পাবনা) সংবাদদাতা :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বুলবুলি রানী ঘোষ ৬৯ বছর বয়সে পাননি বীরাঙ্গনা নারীর স্বীকৃতি। ফলে তার ভাগ্যে বৃদ্ধকালেও সরকারি কোনো অনুদান বা সুযোগ সুবিধা জোটেনি।
বুলবুলি রানী ঘোষ জানান, ১৯৭১ সালের ১৪ মে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা কুন্ডুপাড়া গ্রামের পিত্রালয় থেকে পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশের একািট বাগানে ধর্ষণ করে ছেড়ে দেয়। তখন তার বয়স ১৫ বছর। পরে এই ঘটনা গোপন রেখে তার পিতা হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবকের সাথে বুলবুলির বিয়ে দেন। কিছুদিনে মধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে স্বামী তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর আর বুলবুলির বিয়ে হয়নি। তার বাবা অমূল্য ঘোষ সম্মান বাঁচাতে চলে আসেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা গ্রামে। কয়েক যুগ ধরে এখানে তাদের বসবাস। বাবার মৃত্যুর পর তিনি নি:সন্তান এবং অসহায় অবস্থায় ভাই সুশান্ত ঘোষের আশ্রয়ে রয়েছেন। তবে শরীরে নানা রোগ ব্যাধির কারণে তার ভাই ঠিকমত চিকৎিসা বা খাওয়া-পড়া দেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বুলবুলি ঘোষ বলেন বহুদিন ধরে তিনি ঘুরে ঘুরে এখন ক্লান্ত ! তাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি বীরাঙ্গনা নারীর স্বীকৃতি দাবি করেছেন।
বুলবুলি ঘোষ বলেন,তিনি অনেকের দ্বারে ঘুরেছেন কিন্তু আজও বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাননি। তিনি কয়েক বছর আগে অষ্টমণিষা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুলের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটা আবেদন করেছিলেন। তারপর আর কোনো খবর নেই।
অষ্টমণিষা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল জানান,দুই বছর আগে বুলবুলির একটি আবেদনে ফরিদপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা তাকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দিতে সুপারিশ করেছিলেন। ফলে তিনিও সুপারিশ করেছিলেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান বলেন,বুলবুলির আবেদনের কথা তিনি শুনেছেন কিন্তু তখন এখানে ইউএনও হিসাবে নাজমুন নাহার ম্যাডাম ছিলেন। এ ব্যাপারে অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে তিনি ঐ বীরাঙ্গনা নারীর স্বপক্ষে সকল কাগজপত্রসহ দেখা করতে বলেছেন। তবে বুলবুলি ঘোষ এখনো আসেননি।।