শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সে হিসাবে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন।
এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছাত্রীরা নয়, বরং ছাত্ররা ৬৪২ জন এগিয়ে রয়েছেন।
তবে সামগ্রিক পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন। এদের মধ্যে পাস করেছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৮৬ জন।
এবার পাসের হারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এগিয়ে রয়েছে। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম, ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
ফলাফলে আরও দেখা গেছে, এবার ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
গত বছর ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
ফলে গত বছরের তুলনায় এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার এবং সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জন—উভয় ক্ষেত্রেই অবনতি হয়েছে।