দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন। একই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে একই স্থানে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সচিব কানিজ মওলা শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১২ ফেব্রুয়ারি, বুধবার। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে। সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার শপথ আয়োজন করা হচ্ছে।
নির্বাচনে ২০৯ আসন পেয়ে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৬টি আসন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। এছাড়া বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কয়েকটি আসনে জয়ী হয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানায়, সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।
এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এখনো প্রস্তুত নয়। দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ছাড়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। পরে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তর করা হয়।