বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “সংস্কারের কথা বলে প্রচারণায় নেমেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি সংস্কার ও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। কিন্তু অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি দল।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, “এখন অনেকে বড় বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। নির্বাচনে দেখা যাবে কে কতটা ভোট পায়। সেজন্য আমরা ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমরা নির্বাচন চাই। আমরা যাব জনগণের কাছে। জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দেয় বাদ দিল! আমরা বিরোধী দলে থাকব! তাই না? আগে থেকে এত গলাবাজি কেন ভাই?”
‘আজ আমাদের এই পরীক্ষা এত কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে নাকি উগ্রপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে। আমাদেরকে অবশ্যই সেই উদারপন্থী রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে’-উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব আরও যোগ করে বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান যে আট দফা দিয়েছে এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। ধানের শীষকে যদি আমরা জয়যুক্ত করি তাহলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে। আমাদের মাতা খালেদা জিয়ার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে।”
তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন অনেক বিষয়ে বেইমানি করেছে। আমরা যা চাইনি তাও সংস্কারে যুক্ত করা হয়েছে। তারপরও আমরা অনেক কিছু মেনে নিয়েছি। একটি পক্ষ বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে অপপ্রচার করছে। অথচ, ২০২২ সালে আমরাই সর্বপ্রথম সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের নেতা এ সংক্রান্ত ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমরা বলবো, সংস্কার বিএনপির সন্তান। অনেকে আমাদের জিজ্ঞেস করে আমরা সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা অতীতে বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি তারা এখন বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ধর্মের নামে ভোট চেয়ে মুনাফেকি করছে। তারপরও যেহেতু আমরা সহনশীলতায় বিশ্বাস করি, তাই আপনাদের বলবো, সিদা পথে রাজনীতি করেন। ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা করবেন না। তারা বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশত পাওয়া যাবে। তাহলে আর নামাজ-রোজার দরকার কি। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। অথচ, জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ সহযোজন করেছেন। তাই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে লাভ নেই। আমরা তাকিয়ে আছি নির্বাচনের দিকে। জনগণ ভোট দিলে সরকারে যাবো, না হয় বিরোধী দলে যাবে।”
‘যাদের তিনটি ভোট নেই তারা নির্বাচন প্রতিহতের নানা হুমকি দিচ্ছে। আমরা মনে করি, এবারের ভোটে প্রমাণ হবে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় যাবে নাকি উগ্রবাদীদের হাতে যাবে’-উল্লেখ করেন বিএনপির এ নেতা।