পাবনার চাটমোহরে মাদকদ্রব্য,কিশোর গ্যাং ও হানিট্যাপের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সচেতন চাটমোহরবাসী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোর গ্যাং আর হানিট্যাপ চক্রের অশ্লীলতা,মাদকসেবন করার ভিডিও ভাইরাস হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই হানিট্যাপ নামের চক্রটি তরুণদের মাদক,অশ্লীলতা আর ব্লাাকমেইলের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। ব্লাকমেইলের শিকার পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে।
চিহ্নিত এসকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ কোন প্রকার পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই চক্রটি এখন বেপরোয়া। এ অবস্থায় ফুঁসে উঠেছে সচেতন চাটমোহরবাসী।
গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও কিছু বখাটেদের মাদকসেবন ও নগ্নতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফুঁসে উঠেছে চাটমোহরের নাগরিক সমাজ।
হানিট্যাপ সদস্যদের সামাজিক অবক্ষয়,অশ্লীলতাও প্রকাশ্যে মাদকসেবকদের গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার (৩০ আগস্ট) চাটমোহরে একাধিক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাটমোহরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এদিন সকালে চাটমোহর থানা মোড় এবং বিকেলে নতুন বাজার খেয়াঘাট চত্বরে পৃথক পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার সকাল ১১টায় পৌর শহরের থানা মোড় এলাকায় নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য মানববন্ধন থেকে পুলিশকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। পরে মানববন্ধন শেষে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন,সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসাদুল ইসলাম হীরা,যুবদল নেতা কে. এম সাইদ-উল ইসলাম কাফি,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসদুজ্জামান লেবু, পৌর যুবদলের আহবায়ক তানভির লিখন জুয়েল,ছাত্রদল নেতা শরিফুুল ইসলাম,জাতীয় নাগরিক কমিটির চাটমোহর উপজেলা শাখার আহবায়ক ফয়সাল কবির,সদস্য রোকসানা পারভীন,খাইরুল ইসলাম,আহত জুলাই যোদ্ধা আব্দুল আলিম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,হানিট্যাপের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পরেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ আছে। জেলার মধ্যে চাটমোহর একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা। গুটিকয়েক উঠতি বয়সী যুবক-যুবতী সমাজকে নষ্ট করছে এটা মেনে নেওয়া যায় না। প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও নগ্নতা মেনে ও নেওয়ার মতো না। চাটমোহরকে বাঁচাতে হলে মধুচক্র ভাঙতে হবে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না আনলে এরপর কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন,যারা এরসাথে জড়িত তারা কেউ এখন এলাকাতে নেই। এই চক্রকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে। এই চক্রকে ধরতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চান ওসি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বলেন,মাদক ও অশ্লীলতার বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যা দেখেছি বা শুনেছি বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। যারা এর সাথে জড়িত তাদের প্রত্যেকের ঠিকানা ও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে কাজ করছে। আসলে এটা একটা সামাজিক ব্যধি। এটাকে প্রতিরোধ করা জরুরি। আমরা সবাই মিলে কাজ করবো এবং এই সামাজিক ব্যধিকে প্রতিরোধ করব।
সূত্র: এফএনএস।