পাবনার চাটমোহরে ৮ম শ্রেণীর এক মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে বাড়ি থেকে ভাগিয়ে নিয়ে ধর্ষন ও দেহ ব্যবসা করানোর অভিযোগ উঠেছে কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষে ওই মাদ্রাসাছাত্রীর পিতা ঘটনার ২৫ দিন পর বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চাটমোহর থানায় মামলা করেছেন।
ওই মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়ি চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বৃ-রায়নগর গ্রামে। তার পিতার নাম আরিফ হোসেন। সে হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বাঘলবাড়ি কৈ দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। কথিত প্রেমিক পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার মহেষখালি গ্রামের মৃত তসলিম হোসেনের ছেলে নাঈম হোসেন (২৩)। পুলিশ ঘটনার মূলহোতা কথিত প্রেমিক নাঈম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গ্রেফতারকৃত নাঈমকে আদঅরতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। একইদিন মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষা করার জন্য পাবনায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই স্কুলছাত্রীর পিতা আরিফ হোসেন জানান,তার মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে নাঈম। গত ৫ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে তার মেয়ে (১৩) কে ভাগিয়ে নিয়ে যায় নাঈম। এরপর ৮ আগস্ট নৌকার মধ্যে তাকে প্রথমে ধর্ষন করে। সেখান থেকে নাটোরে নিয়ে গিয়ে একটি ক্লাবে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষন করেছে। তার সহযোগিরাও এই ঘটনার সাথে জড়িত। ঘটনার পর কোথাও মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পিতা আরিফ হোসেন গত ১৭ আগস্ট চাটমোহর থানায় একটি জিডি করেন। পরবর্তীতে গত ২২ আগস্ট সিরাজগঞ্জের কড্ডা এলাকা থেকে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করে পিতার কাছে হস্তান্তর করে। উদ্ধারের দুইদিন পর ২৪ আগস্ট ছাত্রীর পিতা চাটমোহর থানায় মামলা করতে আসলে পুলিশ জানায়,ঘটনাস্থল যেহেতু সিরাজগঞ্জ জেলায়,মামলা সংািশ্লষ্ট থানায় করতে হবে। এরপর কোথাও মামলা করতে না পেরে গত ২৮ আগস্ট মাদ্রাসাছাত্রী,তার পিতা-মাতা আবারো চাটমোহর থানায় আসেন মামলা করতে। এরপরই পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
মামলা হওয়ার পর পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূলহোতা কথিত প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগি পরিবারের অভিযোগ চাটমোহর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পুলিশ বলেছিল ঘটনাস্থল যেহেতু অন্য থানা এলাকায়,সেখানেই মামলা করতে হবে। এ কারণে মামলা করতে দেরী হয়েছে। অবশেষে চাটমোহর থানা পুলিশ মামলা নিয়েছে।
এদিকে ধর্ষনের শিকার ওই মাদ্রাসা ছাত্রী বাঘলবাড়ি কৈ দাখিল মাদ্রাসায় পড়ালেখঅ করলেও,সেখানে ভর্তি কীভাবে হয়েছে,তার সঠিক তথ্য মিলেনি। মাদ্রাসার সুপারও কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন,আমি মেয়ের পিতাকে থানায় আসতে বলি। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত তারা কেউ আসেনি। আমি ছুটিতে এসেছি। শুনেছি থানায় মামলা হয়েছে।
থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকার মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,ধর্ষন মামলা হয়েছে। এটা গণধর্ষণের কোন ঘটনা নয়। অভিযুক্ত প্রেমিক নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পর বিস্তারিত জানাবো।
সূত্র: এফএনএস।