প্রথমবারের মতো রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ থেকে জন্ম নেওয়া ভারতের তরুণদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বিক্ষোভে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানে মেতে ওঠে আন্দোলনকারীরা। এই স্লোগান ঘিরে ভারতে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।
তীব্র গরমের মধ্যে শনিবার রাজধানীর জন্তর মন্তর এলাকার বিক্ষোভস্থলে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ তেলাপোকার মুখোশ পরে, কেউ ফুলের তোড়া, কেউ বই হাতে নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন। তাদের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দিপকে।
অভিজিৎ দিপকে ভারতের রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ এবং বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তিনি গত ১৬ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর সূচনা করেন। এরআগে, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আদালতে শুনানির সময় বেকার তরুণদের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’ সাথে তুলনা করেন। এ ঘটনা থেকেই জন্ম হয় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)
গঠিত হওয়ার পর থেকেই ‘সিজেপি’র তীব্র সমালোচনা করেছেন মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্যরা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু অভিযোগ করেছেন, দলটির ২ কোটি ২০ লাখ ফলোয়ার মূলত চিরশত্রু পাকিস্তান এবং ‘ভারতবিরোধী গ্যাং’ থেকে আসা, যদিও দিপকে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
সেই ধারাবাহিকতায় ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়াকে উস্কানিমূলক বলছে বিজেপির নেতারা।
সমাবেশে দিপকে অভিযোগ করেন, ভারতে সরকারবিরোধী মত প্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে।
তিনি বলেন, আমার মা ভেবেছিলেন, দেশে ফিরলেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। শুধু আমার মা নন, এই দেশের অনেক মায়েরই আশঙ্কা রাজনীতি নিয়ে কথা বললে কিংবা সরকারের সমালোচনা করলে তাদের সন্তানদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এবং বিজেপি বিরোধীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, সরকার সবসময় আইন ও সংবিধান মেনেই কাজ করছে।
এতকিছুর পরেও ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভেও উস্কানি দিতে পিছপা হননি বিজেপির কর্মীরা। তারা বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে সিজেপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ‘দিল্লি পুলিশ লাঠি চালাও, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি’ স্লোগান দেন। এ সমাবেশস্থল জন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের কয়েকজনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম জেন জেড জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিয়ে গঠিত ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে এই আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো রনজয় সেন বলেন, ‘আমি মনে করি না যে ভারত কোনো রাজনৈতিক উত্থানের ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ ভারত একটি বিশাল ও জটিল দেশ যেখানে যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাব বিস্তার করতে হলে শক্তিশালী বাস্তব উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের জনসমাবেশের প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র অনলাইন উপস্থিতি দিয়ে এটি সম্ভব নয়।’