জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেবেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এর আগে এই আদেশের দিন পিছিয়ে আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
মামলাটি ঘিরে দুই পক্ষের অবস্থান একেবারেই বিপরীত। গত ২ মার্চ প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের আবেদন জানিয়ে শুনানি শেষ করে। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “তৎকালীন সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন উসকানিমূলক ভূমিকা পালন করেন। তাদের বক্তব্য ও কার্যক্রম নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের পরিবেশ তৈরি করে।”
অন্যদিকে, ১১ মার্চ আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, “প্রসিকিউশন অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। কোনো হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণও নেই।”
রাজধানীর বাড্ডা ও আশপাশ এলাকায় ২৩ জনকে হত্যার অভিযোগসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা কামরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি জানানো হলে প্রসিকিউশন কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়, “যেকোনো মূল্যে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে।”
সব মিলিয়ে এই মামলার আজকের আদেশকে ঘিরে আইনি অঙ্গনে বাড়তি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। অভিযোগ গঠন হলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে, আর অব্যাহতি পেলে এখানেই শেষ হতে পারে এই পর্ব।