রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানার পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন।
শুক্রবার সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মানবিক বিবেচনা থেকেই এমন নৃশংস ঘটনার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধীদের প্রতি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে যে, ভয়াবহ অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
তবে আদালত প্রয়োজন মনে করলে আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার বিচ্ছিন্ন মাথা। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার করা হয় সোহেল রানাকে। তদন্ত চলাকালে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ ও মানববন্ধনে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আসামির ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগামী রোববারের মধ্যে মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।