1. admin@ddnnewsbd.com : admin : ddn newsbd
  2. mamahbubulalom@gmail.com : mahbubul alom : mahbubul alom
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

কেন কবরে খেজুরের ডাল দেয়া হয়? যা বলছে ইসলাম

ডিডিএন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৫ সময় দর্শন

আমাদের সমাজে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের ওপর খেজুরের ডাল বা গাছের শাখা পুঁতে দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। অনেক সময় সাধারণ মানুষ মনে করেন এটি সুন্নাত কিংবা এর মাধ্যমে কবরের আজাব নিশ্চিতভাবে মাফ হয়।

সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ওহীর মাধ্যমে জানতে পারলেন যে, ওই দুই ব্যক্তির কবরে আজাব হচ্ছে। তখন তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল ভেঙে দুই ভাগ করে দুটি কবরের ওপর পুঁতে দিলেন। সাহাবীগণ এর কারণ জানতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আশা করা যায়, ডাল দুটি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের আজাব কিছুটা লাঘব করা হবে।” (বুখারী: ১৩৬১, মুসলিম: ২৯২)

এটি ছিল বিশেষ মোজেজা

অধিকাংশ আলেমের মতে, এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একটি বিশেষ ঘটনা। তিনি ওহীর মাধ্যমে আজাবের কথা জানতে পেরেছিলেন বলেই সুপারিশ হিসেবে ডাল পুঁতেছিলেন। যেহেতু আমরা কবরের অবস্থা জানি না, তাই ঢালাওভাবে সবার কবরে এটি করাকে অনেক আলেম ‘অতিরঞ্জন’ হিসেবে দেখেন।

সুন্নত নাকি জায়েজ

অনেক আলেম মনে করেন, কবরে ডাল দেওয়া বাধ্যতামূলক কোনো সুন্নাত নয়। তবে যদি কেউ বরকত হিসেবে বা তাজা উদ্ভিদের তাসবিহ (আল্লাহর গুণগান) থেকে মৃতের উপকার হবে ভেবে একটি ডাল পুঁতে দেয়, তবে তা ‘জায়েজ’ বা বৈধ হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটি দাফনের কোনো অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়।

অতিরঞ্জন পরিহার

কবরের চার কোণায় চারটি ডাল দেওয়া বা নির্দিষ্ট সংখ্যক লোক দিয়ে এটি করানো ইসলামে সমর্থিত নয়। এ ছাড়া ফুল দিয়ে কবর সাজানো বা মাজারের মতো জাঁকজমক করার কোনো ভিত্তি ইসলামি শরিয়তে নেই।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কবরে ডাল পুঁতে দেওয়ার চেয়ে মৃত ব্যক্তির জন্য বেশি উপকারী হলো বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তেগফার করা। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা। কবরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো তাজা ঘাস বা লতাপাতা উপড়ে না ফেলা।

কবরের আজাব থেকে মুক্তির মূল উপায় হলো ব্যক্তির নিজ আমল। খেজুরের ডাল পুঁতে দেওয়া কেবল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একটি বিশেষ সুপারিশের উদাহরণ ছিল। তাই কোনো লৌকিকতা বা কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে সুন্নাহ অনুযায়ী মৃতের জন্য দোয়া করাই সর্বোত্তম পথ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host