বিশেষ প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মহুরীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জানা যায়, এই অফিসের দলিল লেখকরা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছেন। যে সমস্ত দলিল গ্রহীতা এই অফিসে দলিল করতে আসেন তাদের কে বাধ্য করা হয় অতিরিক্ত টাকা প্রদান করতে। এখানে যে চাঁদাবাজিটা হয় তাতে সরকারি নিয়মে ফিস নেওয়ার পরেও লেখনি বাবদ আদায় করেন অনেক বেশি টাকা। কালিয়াকৈর গ্রামের সবুজ নামের একজন দলিল গ্রহীতা জানান, তিনি ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি দলিল রেজিস্ট্রেশন করেন। মহুরীরা তার রেজিস্ট্রেশনের ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৭০ হাজার টাকা তার কাছ থেকে আদায় করেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটা বড় চাঁদাবাজির ঘটনা।
অভিযোগে প্রকাশ, দলিল লেখকরা স্থানীয় দলীয় কিছু ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে এই চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন । এর ফলে সপ্তাহে মোটা একটি টাকা ওই ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছে দেন দলিল লেখকরা।ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দলিল গ্রহীতারা। স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান ,সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মহুরীরা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অবগত রয়েছেন । ভবিষ্যতে গণ শুনানির জন্য ভাঙ্গুরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও করা হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত চাঁদাবাজি ও মব সৃষ্টির ঘটনায় নতুন করে মামলার বিধান রাখা হয়েছে।
পাবনা- ৩ এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আজগার , তিনিও দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন বলে তিনি জানিয়েছে।
ভাঙ্গুরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ঘটনায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মিটিংয়ে এ বিষয়ে রেজুলেশন লিপিবদ্ধ করে কমিশনে পাঠানোর নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে কতিপয় অভিযোগ ও সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ঘটনার গণ শুনানিতে যারা অংশগ্রহণ করবেন, তাদের কাছ থেকে জানা হবে, কারা চাঁদাবাজি করছেন এবং কাদেরকে ভাগ দিচ্ছেন ! পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।