“সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সততা আর নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারের সকল ভালো কাজে আমরা সহযোগিতা করবো। যে সকল দপ্তরে অনিয়ম ও দূর্নীতি চলছে,সেগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরা কাজ করবো। আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই,দোয়া করবেন,আমি যেন আপনাদের দেয়া আমানত আল্লাহ তায়ালা বহন করার শক্তি দান করেন।” পাবনা-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আছগার গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাটমোহর উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে একথা বলেন।
অধ্যাপক আলী আছগার বলেন,‘সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আছে,আমরা বিরোধি দলে আছি,আমরাও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমরা সকলে মিলে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এই আসনকে মাদকমুক্ত করতে পারবো। আমার ও আমার সংগঠণের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা থাকবে। চাটমোহরের বিলকুড়ালিয়ার খাসজমির জটিলতা নিরসন দরকার। সম্প্রতি যে ঘটনা ঘটেছে,তা সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি। নব নির্বাচিত এই এমপি বলেন,‘বিভিন্ন সরকারি দপ্তর বিশেষ করে ভূমি অফিসে যে সকল অনিয়ম ও দূর্নীতি চলছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দূর্নীতিটা বেশি। এখানেই সমস্যা,বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যায়,তা গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন,‘টিআর,জিআর,কাবিখা মূলতঃ দল পালার জন্য। দল চালাতে হয়,তাই এ ধরণের প্রকল্প দিয়ে দলীয় কর্মীদের পকেট ভারী করা হয়। দল পরিচালনার জন্যই টিআর,কাবিখা ব্যবহার করা হয়। এ বিষয়ে সরকারি দলকে ভূমিকা রাখতে হবে। এ প্রকল্প দিয়ে আমরা ভালো কাজ করতে পারবো। ভালো কাজে আমরা সহযোগিতা করবো। আমরা শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবো না,সরকারের সকল ভালো কাজকে ওয়েলকাম জানানো। সরকারের সকল ভালো সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো। দেশ ও জাতির স্বার্থ বিরোধি কাজ হলে,তার বিরুদ্ধে থাকবো। তিনি বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন,‘আমি বিরোধি দলীয় সদস্য,এটা মনে না করে,একেবারে নিজেদের মানুষ মনে করে আমাকে যদি দেখেন,তাহলে আমার পক্ষ থেকে কোন কার্পণ্য থাকনো। কোন প্রকল্প থেকে একটি পয়সাও আমার পকেটে কখনও আসবেনা।
অধ্যাপক আলী আছগার বলেন,‘আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। আমার পরিবারের দুইজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি সকল ধর্মের আচার অনুষ্ঠানে যাই। আমার পক্ষ থেকে,আমার দলের পক্ষ থেকে হিন্দু,খ্রিস্টান আর মুসলমানের মধ্যে কোন বৈষম্য থাকবেনা। তিনি বলেন ভাঙ্গুড়া সন্তান আমি। কিন্তু চাটমোহর ও ফরিদপুর আমার দুই চোখ। বরাদ্দ অবশ্যই আমি বড় উপজেলা হিসেবে চাটমোহরে বেশি থাকবে। এটা আমাদের দলীয়ভাবেও সিদ্ধান্ত। তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন,উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ ওমর ফারুক বুলবুল,থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সরোয়ার হোসেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা ইগ্নাসিউজ গমেজ,উপজেলা জামায়াতের আমীর মওলানা মোঃ আব্দুল হামিদ,সেক্রেটারী মওলানা মোঃ হাবিবুর রহমান,প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমাদের বড়াল সম্পাদক হেলালুর রহমান জুয়েল,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আঃ রহিম কালু,পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ,প্রধান শিক্ষক আরকেএম আঃ রব মিঞা,শিক্ষক আবুল কালাম মোহাম্মদ নুরে মোরতজা,সাংবাদিক রকিবুর রহমান টুকুন,প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদ রানা প্রমুখ। পরে সংসদ সদস্য উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় যোগ দেন। এসময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুন্তলা ঘোষ,উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন কুমার সরকার,উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল গণি,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা,পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মতিউর রহমান,ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম,পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার খলিলুর রহমান,যুব উন্নয়ন অফিসার আঃ মাবুদ,ফৈলজানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান,আইসিটি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।