পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “এবারের নির্বাচন ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। এই নির্বাচন কারও ঠেকানোর সাধ্য নাই। সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে পুলিশ সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৭ হাজারের মতো। তবে আমরা সবগুলো কেন্দ্র বিবেচনায় ব্যবস্থা নিয়েছি। অতি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সব বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ। নির্বাচনের পর নতুন সরকার আসবে। পুলিশ সংস্কারের জন্য নতুন সরকারের্ কাছে আপনাদের কি প্রত্যাশা বা সুপারিশ করবেন জানতে চাইলে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ কমিশনের সুপারিশগুলো যাতে বাস্তবায়ন করা হয় সেগুলো নতুন সরকারের কাছে এড্রেস করা হবে। তবে সংস্কার নিয়ে কমিশনের মানসিকতার ঘাটতি ছিল। কিভাবে এটি হয়েছে তা জানা নেই। নতুন সরকার চাইলে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।
মো. বাহারুল আলম জানান, “নানান প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ফ্যাসিস্ট র্যাজিমের কিছুটা হুমকি রয়েছে দলীয় ব্যাপার, তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সারাদেশের থানাগুলোতে ২৭ হাজার ৯৯৫টি লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা হয়েছে। আরও কিছু অস্ত্র জমা হওয়া বাকি আছে। কেউ যদি জমা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ধরে নেওয়া হবে তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন তা নিয়ে কাজ করছে।”
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, “পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে। সবার একটাই উদ্দেশ্য একটা ভালো নির্বাচন করা। আগের দিন নাই যে মুখে একটা আর কাজে আরেকটা। এবার যা কথা তাই কাজ। সবাই এক হয়ে কাজ করা। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ যাতে উৎসব মুখর হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
সম্প্রতি শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিক দেখার পরও বেধরক পিটিয়েছে। জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশে এখনো পুরনো ফোর্সই রয়েছে। েির্ট্রইন্ড করার চেষ্টা ছিল। ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট র্যাজিমের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল এসব পুলিশ। ১৫ বছরের বদ অভ্যাস এক বছরে শুধরানো সম্ভব হয়নি। অন্তত ১০ বছর কাজ করলে হয়তো এখান থেকে বের হওয়া সম্ভব। এরপরেও আমরা অনেক পুলিশ সদস্যকে রিট্রেইন্ড করেছি। তারা ভালো কাজ করছে।’
‘আমরা চেষ্টা করছি ভালো পুলিশিং করার জন্য। ৫ আগস্টের পর পুলিশের ধৈর্য দেখেছেন। এরপরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে কতদিন। পুলিশকে মেরেছে তবুও পালটা আঘাত করা হয়নি। আমাদের দুর্বলতা আছে এরপরও আমরা চেষ্টা করছি’-উল্লেখ করেন তিনি।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন দেশের বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুটের ঘটনায় এখনো কতগুলো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এবং সেগুলো আসন্ন নির্বাচনে কি প্রভাব ফেলতে পারে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘এখনো ১ হাজার ৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ব্যক্তিগত অস্ত্র এখনো ১ হাজারের মতো উদ্ধার হয়নি। যেকোনো অস্ত্রই থ্রেড। এরপরও বলছি এবারের যে কমিটমেন্ট সকল প্রশাসনের। সর্বকালের সবচেয়ে ভালো ইলেকশন করতে চায় সবাই। সরকারের কমিটমেন্ট। একটা ভালো নির্বাচন করার।’
কি এমন থ্রেড আছে যে ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নির্বাচনে এক লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য ও ৬ লাখ আনসার সঙ্গে দুই লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে? জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘কোনো থ্রেড না। সবাই চায় একটা ভালো নির্বাচন করা। ফ্যাসিস্ট যে র্যাজিম আছে তারা নিজেরাই ডিমরালাইজড। এরপর কেউ কিছু করতে চাইলে তা মোকাবিলা করা হবে। কেউ যেন প্রশ্ন তুলতে না পারে যে নির্বাচন আংশিক হলেও ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে। এর কোনো সুযোগ রাখা হবে না।’
পুলিশ কি ভোটের মাঠে নিরপেক্ষ থাকবে? অনেকের অভিযোগ যে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে? তাহলে পুলিশ কি আদৌ নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকবে কিনা? জানতে চাইলে পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, “জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি। আমরা নিরপেক্ষ কিনা? দেখতে পারবেন। এরপরেও দুয়েকজন দুষ্ট প্রকৃতির কেউ ত্রুটি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইজিপি আরও বলেন, এবার নির্বাচনে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিন ধরনের হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার নিরাপত্তার রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৯০ ভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এছাড়া পুলিশ সুপাররা ড্রোন ব্যবহার করা হবে।