1. admin@ddnnewsbd.com : admin : ddn newsbd
  2. mamahbubulalom@gmail.com : mahbubul alom : mahbubul alom
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে সমঝোতার পথে গ্রামীণফোন ও রবি

ডিডিএন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৬৫ সময় দর্শন

অডিটে নির্ধারিত সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া নিয়ে ছয় বছর ধরে চলা আইনি বিরোধ মেটাতে সরকারকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে দেশের শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি। দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চললেও এখন তারা সালিশ বা আরবিট্রেশনের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে। অপারেটরগুলোর মতে, এতে সময় ও সম্পদের সাশ্রয় হবে, পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থও বজায় থাকবে।

এই বিরোধের সূত্রপাত হয় ২০১৬ সালে। ওই বছর গ্রামীণফোন ও রবির আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যাচাই করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন অডিট বা নিরীক্ষা করে। এতে ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তরঙ্গের মূল্য পরিশোধ, লাইসেন্স ফি, কর ও ভ্যাটসহ নানা বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। অডিট শেষে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে বিটিআরসি।

এই দাবির বিরুদ্ধে আপত্তি জানালেও গ্রামীণফোন দুই হাজার কোটি টাকার বেশি এবং রবি ১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এরপর ২০১৮ সালে বকেয়া দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে অপারেটর দুটি আদালতে পৃথক মামলা করে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রামীণফোন ও রবি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে চিঠি দিয়ে সমঝোতার প্রস্তাব দেয়। গ্রামীণফোন তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নিরীক্ষা দাবির অর্থ নিয়ে ছয় বছর ধরে মামলা চলায় বিষয়টি জটিল ও দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। তাই সালিশি পদ্ধতিতে সমাধান খোঁজা হলে তা সব পক্ষের জন্য কার্যকর হতে পারে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, “সমঝোতায় যে সমাধানই হোক, যদি তা আইনি কাঠামোর ভেতরে থাকে, তাহলে দুই পক্ষই সেটি মেনে নেবে এবং সেই অবস্থানেই থাকবে।”

রবিও একই সুরে মধ্যস্থতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, “যেভাবে অডিট করা হয়েছিল, তা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। আরবিট্রেশনের মাধ্যমে যদি বিষয়টির সমাধান হয়, আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই।”

একসময় এ বিরোধ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ না দেখালেও এখন সালিশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বিটিআরসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, “টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ রাজস্ব আসে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে। তাদের সঙ্গে একটি বড় বিরোধ চলছে। আরবিট্রেশনে যাওয়ার আগে এর আইনি ভিত্তি, সুবিধা ও অসুবিধা সরকার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।”

বর্তমানে দেশে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ৮ কোটি এবং রবির গ্রাহক ৫ কোটি ৭৫ লাখ। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিরোধের দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হলে টেলিযোগাযোগ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host