রাষ্ট্রের প্রকৃত সংস্কার এবং ক্ষমতার ভার শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে জনগণের হাতে নিতে হলে গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, সচেতনভাবে ভোট না দিলে সমাজে কাঙ্ক্ষিত ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ দীর্ঘ সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে পারে।
রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও নগর উন্নয়ন বিষয়ক অনুষ্ঠানে রোববার (১১ জানুয়ারি) এসব কথা বলেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, শুধু স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে বলে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। দেশের ইতিহাস বলছে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হলেই সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে প্রতিটি নাগরিককে নিজের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে তরুণ সমাজ বড় একটি ভোটার অংশ। যে তরুণেরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে, তারাই সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত শক্ত করবে। “যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে গণভোটে যেতে হবে। হ্যাঁ বলতে হবে। চুপ করে বসে থাকলে বা নিষ্ক্রিয় থাকলে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার সুযোগ আমরা হারাবো,” বলেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, গণভোটকে ঘিরে ভয়ভীতি দেখানোর কিছু আলামত ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই ভয় জয় করেই জুলাই-আগস্টে আন্দোলন সফল হয়েছিল। “এই ভয়কে আবারও জয় করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার ভয় জয় করেছে, এবারও পারবে,” বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও। তিনি বলেন, “নির্যাতন আর আয়নাঘরের সময়ে ফিরে যেতে না চাইলে গণভোটে অংশ নিতে হবে। আধিপত্যের কাছে বাংলাদেশ আর কখনও মাথানত করবে না, এটিই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।”