আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ যাদের ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সংগঠন জুলাই ঐক্যের পক্ষে এই রিট দায়ের করেছেন সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, যিনি বোরহান মাহমুদ নামেও পরিচিত।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন আইন ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। এই রিটের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বৈধতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
রিটের পক্ষে শুনানিতে থাকবেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই এক দিনের মধ্যেই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে। আইন অঙ্গনে এ আবেদনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন মনোনয়ন যাচাইয়ের আইনি কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রিট শুধু কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, অতীত ভূমিকা এবং সংবিধানসম্মত রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়গুলোও বিচারিক আলোচনায় আসতে পারে।
এদিকে জাতীয় পার্টিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক বিভক্তির অভিযোগ রয়েছে। একাধিক গ্রুপের পাল্টাপাল্টি বৈধতা দাবি, কে দলের প্রকৃত চেয়ারম্যান এবং কে আইনগতভাবে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, এসব প্রশ্ন অতীতেও নির্বাচন কমিশন ও আদালতে গড়িয়েছে। নতুন এই রিট সেই পুরোনো বিতর্ককে আবারও সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই এমন আইনি উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাইকোর্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট দলগুলোসহ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারীরা।