দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে এই প্রথম জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে জগন্নাথ কলেজ থাকাকালে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। ফলে প্রথম জকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮টায় ভোট শুরুর কথা থাকলেও কারিগরি প্রস্তুতির কারণে ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৯টায়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। পাশাপাশি হল সংসদের ১৩টি পদের জন্য লড়ছেন ৩৩ জন। কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৮৭ জন।
নির্বাচনে চারটি প্যানেল অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’। এছাড়া হল সংসদে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ‘অদম্য জবিয়ান’, ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ ও ‘রোকেয়া পর্ষদ’ প্যানেল।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোট শেষে ওএমআর মেশিন ব্যবহার করে ব্যালট গণনা করা হবে এবং পুরো গণনা প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে, যেখানে এলইডি স্ক্রিনে গণনার দৃশ্য দেখানো হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি রোভার স্কাউট ও বিএনসিসির সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটার শিক্ষার্থীরা কেবল ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন এবং ভোট শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হচ্ছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে নির্ধারিত গেট ব্যবহার করতে হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি জানান, “আজকের মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি।”
অন্যদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব এবং শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “জয়-পরাজয় যাই হোক, ফল মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।”
উল্লেখ্য, জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ মূলত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোটগ্রহণ আয়োজন করা হয়।