1. admin@ddnnewsbd.com : admin : ddn newsbd
  2. mamahbubulalom@gmail.com : mahbubul alom : mahbubul alom
শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১১:৩২ অপরাহ্ন

ইনকিউবেটরে হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে মাসে আয় ৩ লাখ টাকা

ডিডিএন ডেস্ক:
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬ সময় দর্শন

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম থেকে হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে সফল হয়েছেন যুবক লিটন ইসলাম (৩২)। এসব হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে মাসে আয় করেন প্রায় ৩ লাখ টাকা। স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তার এই পদ্ধতি।

বৃহস্পতিবার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কাশিপুর খুশির বাজার এলাকায় গিয়ে কথা হয় খলিলুর রহমানের ছেলে লিটনের সঙ্গে। উদ্যোক্তা এ যুবক জানান, প্রায় এক যুগ থেকে তার বাবা তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করে আসছিলেন। পরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাবার ব্যবসাতে সহযোগিতা করার জন্য ইনকিউবেটর যন্ত্রটি তিনি কেনেন। ওই যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটান তিনি।

লিটন জানান, বাড়ির পাশে পুকুর থাকায় হাঁস পালনে তেমন বেগ পেতে হয় না। বড় হাঁসগুলো প্রতিনিয়ত ডিম দেওয়ায় বাড়তি ডিমও বেশি কিনতে হয় না। তাই অল্প খরচে লাভ বেশি হয়। শুধুমাত্র হাঁস প্রজনন, ডিম উৎপাদন ও বিক্রি করে থেমে যায়নি তিনি। দেশি সাদা ও কালো জাতের পাশাপাশি চীনের জিনডিং, বেইজিং, পিংকি, ইংল্যান্ডের খাকি ক্যাম্পবেল ও ভারতের রানারসহ বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের হাঁস পালন ও বাচ্চা প্রজনন করা হচ্ছে তার খামারে। এখন এ খামার ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন লিটন।

বীরগঞ্জ উপজেলায় খামারটি হাঁস প্রজনন খামার হিসেবে ব্যাপক পরিচিত  পেয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ৬ দিন পর ডিম ফুটানো বাচ্চা বুকিংয়ের মাধ্যমে খামারি ও উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়। বাজার মূল্যের চেয়ে খুব কম মূল্যে হাঁসের বাচ্চা ও ডিম বিক্রি করেন লিটন। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ও উদ্যোক্তারা তার খামারে হাঁসের বাচ্চা কিনতে আসেন। তার সফলতা দেখে জেলার অনেক তরুণ ও যুবক হাঁসের খামার করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

এ উদ্যোক্তা জানান, ইনকিউবেটর মেশিনটি তিনি কেনেন ৫০ হাজার টাকায়। ২৮ দিন পর বাচ্চা গুলো খোলস থেকে বেড়িয়ে আসার পর, সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেয়া হয়। লাভ ভালো থাকায় এখন ছোট ইনকিউবেটর ভেঙ্গে ৭ হাজার ও ১২ হাজার বাচ্চা ফোটানোর ইনকিউবেটর নিয়েছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, প্রতিটি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। বিক্রি করছি ৭২ থেকে ৭৫ টাকা। মাসে ১৩ হাজার হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে বের করি। এসব হাঁসের বাচ্চা থেকে মাসে আয় হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। জেলার  খানসামা, পাশের পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ, নীলফামারীর সৈয়দপুর, ডোমার, ডিমলা এবং লালমনিরহাটের ক্রেতারা হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

লিটনের দাবি, সরকারি সহযোগিতা পেলে প্রসেসিং প্লান্ট তৈরির মাধ্যমে হাঁস মোটাতাজা করে মাংস বাজারজাত করার পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানিও করতে পারবেন।

বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, ভ্যাকসিন ওষুধসহ সব ধরণের সহায়তা উদ্যোক্তা যুবক লিটনকে দেওয়া হচ্ছে। তিনি এ পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার হাঁস ও ডিম বিক্রি করেছেন। আমরা আশা করছি, তার সফলতা দেখে উপজেলার অনেক নারী-পুরুষ অনুপ্রাণিত হবেন। তারা খামারি হয়ে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবেন।

সূত্র: বাসস

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host