পাবনার ঈশ্বরদীতে চার বছর বয়সী শিশুসন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাসুরের ছেলের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের একটি হলুদখেতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম শিবলু মৃধা। তিনি সলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. ইনছান মৃধার ছেলে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে গৃহবধূর স্বামী কাজের সন্ধানে মেহেরপুরের গাংনীর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে ওই গৃহবধূ প্রতিবেশী এক স্বজনের সঙ্গে গ্রামের মাঠে ছাগল চরাতে যান। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত শিবলু সেখানে গিয়ে গৃহবধূকে জানায় যে, তাঁর চার বছর বয়সী ছোট ছেলের কোমর কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে।
সন্তানের দুর্ঘটনার খবর শুনে আতঙ্কিত গৃহবধূ দ্রুত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে বক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামের হায়দার নামের এক ব্যক্তির হলুদখেতের কাছে পৌঁছালে শিবলু তাঁর পথরোধ করে। এ সময় সে ধারালো হাসুয়া উঁচিয়ে গৃহবধূর শিশুসন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং তাঁকে জোরপূর্বক হলুদখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা ও বোনকে বিষয়টি জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে তিনি ফোনে স্বামীকে ঘটনাটি জানান। স্বামী মেহেরপুর থেকে দ্রুত বাড়ি ফিরে পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিবলু মৃধা আত্মগোপনে রয়েছে। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ধর্ষণের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”