সরকারি বাজেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরেই প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি ব্যয়ে সাশ্রয় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
টিসিবি সূত্রের খবর, কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না থেকে পরিচালন ব্যয় হ্রাস, ব্যাংক ঋণের সুদ সাশ্রয় এবং বিকল্প বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভর্তুকি কমানোর মূল পদক্ষেপসমূহ:
১. ব্যাংক ঋণের সুদ সাশ্রয়: বর্তমানে সংস্থাটির বার্ষিক সুদের ব্যয় প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। ডিলারদের কাছ থেকে সরাসরি ও দ্রুত অর্থ সংগ্রহের নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো হবে, যা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। ২. অপ্রয়োজনীয় জরিপ বন্ধ: একই ধরনের জরিপ বারবার পরিচালনা না করে বিতরণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা বাঁচানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩. সরাসরি সরবরাহ ব্যবস্থা: জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের বদলে নিজস্ব আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি ডিলারদের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছানো হচ্ছে, যা যাতায়াত ও পরিবহন খরচ কমাবে। ৪. নতুন পণ্যে মুনাফা: ভর্তুকিযুক্ত পণ্যের পাশাপাশি সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণের মতো নতুন বাণিজ্যিক পণ্য বিক্রি করে আয় বাড়ানো হচ্ছে। বিগত অর্থবছরে এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে সংস্থাটি ২৪ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছে।
ভোক্তাদের ওপর নেই নতুন চাপ
ভর্তুকি কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও সাধারণ উপকারভোগীদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। টিসিবি নিশ্চিত করেছে, সরকারের ভর্তুকিযুক্ত নিত্যপণ্যের (যেমন তেল, ডাল ইত্যাদি) বিদ্যমান বাজারদর বাড়ানো হবে না। পাশাপাশি নতুন যুক্ত হওয়া বাণিজ্যিক পণ্যগুলো কেনা কার্ডধারীদের জন্য সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক থাকবে।
সংস্থাটি জানায়, কার্যকর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা না এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংস্থাটি নিজস্ব আয়ে পরিচালিত হতে সক্ষম হবে।
সূত্র: বাসস (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা) ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত টিসিবি চেয়ারম্যানের বক্তব্য।