দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশ ও জলজ প্রাণী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আজ রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চকদিগর,সাতবাড়ীয়া ও বৈদ্যমরিচ এলাকার কয়েকটি বিলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় সেখান থেকে ৬৫ টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলী আজম ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত এক সপ্তাহে এই উপজেলায় বেশ কয়েকটি বিল ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস করা হয়। এছাড়া নিষিদ্ধ এই জাল পরিবহনের অপরাধে এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রতিবছর চলনবিল অধ্যুষিত এ উপজেলার নদী ও বিলে বন্যার পানি আসার সাথে সাথে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে এক শ্রেণির মৎস্যজীবিরা দেশীয় মাছের ধ্বংসযজ্ঞ চলায়। তাই এবছর বন্যার পানি আসার পরপরই স্থানীয় মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে নিষিদ্ধ এই জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, মৎস্য সমৃদ্ধ চলনবিল অধ্যুষিত এ উপজেলায় এক সময় প্রচুর পরিমাণ দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো । বর্তমানে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকারের ফলে এখানকার দেশীয় মৎস্যসম্পদের পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। তাই চলনবিলের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এই নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে এধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।