ভাঙ্গুড়া(পাবনা) সংবাদদাতা :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়ালব্রিজ রেল স্টেশনের সামনে জেলাপরিষদের প্রাচীন ডাক বাংলো। ১৯৩৮ সালে স্থাপিত এই বাংলোর চারপাশে সীমানা প্রাচীর রয়েছে। গত রাতে বাংলোর উত্তর পাশের জায়গা দখলে নিয়ে পাকা ইমারাত নির্মাণ শুরু করেছেন গোলাম মোস্তফা নামের এক ব্যবসায়ী। এর আগে তিনি ডাক বাংলোর সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেন। আর এসব কাজ তিনি করেছেন রাতের আধাঁরে বলে জানাগেছে।
স্থানীয়রা জানান,গোলাম মোস্তফা বড়ালব্রিজ বাজারে শ্যালো মেশিন ও যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় করেন। ডাক বাংলোর উত্তর পাশে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সুযোগ বুঝে রাতে ১৫/২০জন লেবার-মিস্ত্রী লাগিয়ে জেলা পরিষদের জাযগা জবর দখল করে সেখানে আরসিসি পিলার নির্মাণ শুরু করেন।
পাবনা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন এই খবরটা পেয়েছেন জানিয়ে বলেন সেখানে একজন গার্ড রয়েছে,তারপর কিভাবে দখল হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডাক বাংলোর প্রহরী আশরাফুল ইসলাম বলেন,রাতের অন্ধকারে ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা সীমানা ওয়াল ভেঙ্গে জায়গা দখল করেছেন। রাতে বাংলোর ভিতরে ঘুমিয়ে থাকায় তিনি বাধা দিতে পারেননি। এর আগের রাতে সীমানা দেওয়াল যখন ভাঙ্গা হয তখন তিনি কর্তৃপক্ষকে জানাননি কেন- এ প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন,দু’তিন দিন ধরে দখল প্রক্রিয়া শুরু করলেও ডাক বাংলোর গার্ড আশরাফুল কোনো প্রকার বাধা দেয়নি বরং সে মোস্তফাকে সহযোগিতা করেছে। গার্ড তখন জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও কিছু জানায়নি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম(বিশু)বলেন,মঙ্গলবার সকালে অফিসে বসেই ঘটনাটি শুনেছেন তিনি। জায়গা উদ্ধারসহ জবর দখলকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ দিকে জেলা পরিষদের মেসেজ পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান এবং জায়গা দখলের প্রমান পান। দেওয়ালও ভাঙ্গার সত্যতা মিলেছে তবে সেখানে রেল এবং জেলা পরিষদের সীমানা যুক্ত থাকায় জরিপের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।