একদিনে দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, এসব নিয়োগে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার বদলে দলীয় আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এমন ধারণা জনমনে তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের নিয়োগ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তার অভিযোগ, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধীরে ধীরে দলীয়করণের সংস্কৃতি বিস্তৃত হচ্ছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তবুদ্ধি ও গবেষণার কেন্দ্র হওয়া উচিত। কিন্তু প্রশাসনিক পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলে একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট হয় এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, অতীতেও দলীয়করণের কারণে শিক্ষা খাতে অস্থিরতা এবং সেশনজটের মতো সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কেউ চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া তিনি গত ১৫ মার্চ দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার মতে, সে সময়ও তারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।
বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যন্ত দলীয় নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এটিকে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেন।
সবশেষে তিনি ভিসি নিয়োগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে তিনি নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।