পাবনার সাঁথিয়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল গফুর(৭০)নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।বৃহস্পতিবার(১৯ফেব্রুয়ারি)দুপুরে উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের খয়েরবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত ব্যক্তি খয়েরবাড়িয়া গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে এবং চার জনকে আটক করেছেন পুলিশ।ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,খয়েরবাড়িয়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে ময়েন উদ্দিন(৪৫)দীর্ঘদিন এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। ঘটনার আগের দিন বুধবার(১৮ফেব্রুয়ারি)নিহত আব্দুল গফুরের ছেলে আলমের সাথে টাকা ধার নেওয়া নিয়ে ময়েনের ঝগড়া হয়।এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়েন তার লোকজন নিয়ে আলমের বাড়ীতে যায়।কথাকাটা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এ সময় আলমের পিতা আব্দুল গফুর (৭০), মৃত- আবুল হোসেন এর ছেলে মানিক হোসেন(৪৩),আবু তালেব এর ছেলে ময়েন উদ্দিন (৪৫), সেলিম এর স্ত্রী ময়ুরী খাতুন (৩৪) আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল গফুরকে মৃত ঘোষণা করেন।গুরুতর আহত মানিক হোসেনকে পাবনা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।এ ঘটনায় ময়েন উদ্দিন(৪৫),তার স্ত্রী রেশমা খাতুন (৩৪), মানিক হোসেন (৪৩) ও সজিব হোসেন(২৫) কে থানা পুলিশ আটক করেছে।
নিহত আব্দুল গফুরের ছেলে আলম জানান,ময়েন আমার নিকট থেকে আগে একবার টাকা ধার নিয়ে আর দেয়নি।এরপর আবার টাকা ধার চেয়েছিল আমি টাকা ধার না দেওয়ায় তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়।এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার ময়েন আমাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং মারধর করে আমার বাবাকে হত্যা করেছে।আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,নিহত ব্যক্তির ছেলে আলম এবং ময়েন উদ্দিনের মধ্যে টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধ এর জের ধরে সংঘর্ষে আব্দুল গফুর নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩জনকে আটক করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।