বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝড়িয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। তার চোখে ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল পরিবারকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনযাত্রা। থেমে গেছে পরিবারের আশার আলো।
নিহত মিজানুর রহমান (৩০) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে-গত ১০ জানুয়ারি সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমান গুরুত্বর আহন হন। দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে মিজানুরের সাথে থাকা প্রবাসীদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমে পরিবারের কোন সদস্যরাই বিশ্বাসই করতে পারেনি।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত মিজানুর রহমানের চাচা সালাম শরীফ বলেন, মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।
চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন,মিজানুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন।
তার এই অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মিজানুর রহমান বাবা, মা, স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোন রেখে গেছেন। তার (মিজানুর) মৃত্যুতে পুরো পরিবারের ভবিয্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পরেছে।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মিজানুর রহমানের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।