রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে মামলাটি দায়ের হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন বন্দুকধারী মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আহত মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁর পেটে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার রাতে কাওরানবাজারের সুপারস্টার হোটেলের দ্বিতীয় তলায় প্রতিদিনের মতো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন মুছাব্বির। রাত ৮টা ১০ মিনিটে তিনি মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টা ২০ মিনিটে তেজতুরী বাজার এলাকায় পৌঁছালে ওঁৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজন তাঁদের পথরোধ করে গুলি চালায়। এতে মুছাব্বিরের ডান হাতের কনুই ও পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মাসুদকেও পেটের বাঁ পাশে গুলি করা হয়।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যশৈন্যু মারমা জানিয়েছেন, মামলায় অজ্ঞাত তিন থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এখনো কাউকে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।”
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে, বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।”
আজিজুর রহমান মুছাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।