1. admin@ddnnewsbd.com : admin : ddn newsbd
  2. mamahbubulalom@gmail.com : mahbubul alom : mahbubul alom
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আবারও যুদ্ধের শঙ্কা: রণপ্রস্তুতি চলছে যুক্তরাষ্ট্রের আজ মহান মে দিবস ভাইকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ফেসবুকে পোস্ট, সাংবাদিককে লাঞ্চিত করলো বিএনপি নেতার ভাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, আজ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত সিএনজি-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে কলেজ শিক্ষক নিহত ভাঙ্গুড়ায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত এনপিটি সম্মেলনে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে জোরালো পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ

পবিত্র কোরআনে ডাটা সেন্টারের ধারণা

অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫১৮ সময় দর্শন

পৃথিবী এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে, যা ঘটতে যাচ্ছে আইসিটি বিপ্লবের হাত ধরে। এরই মধ্যে আইসিটিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বে রাজত্ব করছে। সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, গুগল, আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এ থেকে বোঝা যায়, বর্তমান সময়ের মূল শিল্প হয়ে উঠেছে আইসিটি। আর এর উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয় ডাটা সেন্টারকে। সাধারণ অর্থে ডাটা সেন্টার বলতে বোঝায় এমন একটি স্থাপনা, যেখানে কোনো একটি আইসিটি সেবা প্রদানকারী বা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ডাটা বা তথ্য সৃষ্টি (Generation), সঞ্চালন  (Transmission) ও সর্বোপরি সংরক্ষণ (Storage) করা হয়।

এ কারণেই ডাটা সেন্টারকে বলা হয় ‘একবিংশ শতাব্দীর কারখানা’  (Factories of the 21st Century); যা চলমান শিল্প বিপ্লব তথা আইসিটি বিপ্লবের মূল সূতিকাগার হিসেবে কাজ করছে।

বিশ্ব প্রচলিত ডাটা সেন্টারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে এক শ বছরও হয়নি। বিশ্বের সর্বপ্রথম ডাটা সেন্টার স্থাপিত হয়েছে ১৯৪০ সালের দিকে। কিন্তু এর তেরো শ বছর আগেই মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে আমাদের ডাটা সেন্টারের ধারণা দিয়েছেন। বর্তমানে আমরা আমাদের জরুরি ফাইলগুলো হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ক্লাউড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত করে রাখি। মহান আল্লাহও তাঁর পবিত্র কালামকে এক মহা ডাটা সেন্টারে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘(তাদের প্রত্যাখ্যানে কোরআনের কোনো ক্ষতি হবে না) বরং এটা অতি সম্মানিত কোরআন, যা লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ।’ (সুরা : বুরুজ, আয়াত : ২১, ২২)

পবিত্র কোরআনের এই আয়াতে মহান আল্লাহ একটি শক্তিশালী ডাটা সেন্টারের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে পবিত্র কোরআন সংরক্ষিত আছে। যার নাম ‘লাওহে মাহফুজ’।

‘লাওহে মাহফুজ’ আরবি শব্দ। লাওহ অর্থ ফলক। মাহফুজ অর্থ সংরক্ষিত। লাওহে মাহফুজ অর্থ সংরক্ষিত ফলক। ইসলামী পরিভাষায় লাওহে মাহফুজ বলা হয় ঊর্ধ্ব আকাশে সংরক্ষিত ফলক, যার মধ্যে সৃষ্টির শুরুর লগ্ন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান সব কিছু আল্লাহ তাআলা লিখে রেখেছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি কি জানেন না যে আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। এসবই তো আছে এক কিতাবে (লাওহে মাহফুজে)। (সুরা : হজ, আয়াত : ৭০)

বর্তমান যুগে ফেসুবক, গুগল পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের ডাটা সংরক্ষণ করে রাখে। তাদের ডাটা সেন্টারের এই প্রযুক্তি দেখেই আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ডাটা সেন্টারটি ৬৩ লাখ বর্গফুট বা ১১০টি ফুটবল মাঠের সমান। শুনলেই যে কারো মাথা ঘুরে ওঠে। কিন্তু পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ডাটা সেন্টার লাওহে মাহফুজ কতটা শক্তিশালী ও বড়, তা আমরা কেউই জানি না। তবে পবিত্র কোরআনের কিছু আয়াত ও রাসুল (সা.)-এর কিছু হাদিস থেকে এর ব্যাপারে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পৃথিবীতে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয়ই আসে তা সংঘটিত হওয়ার আগেই আমি তা কিতাবে লিপিবদ্ধ রেখেছি। নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষে এটা খুব সহজ।’ (সুরা : হাদিদ,   আয়াত : ২২)

অর্থাৎ পৃথিবীর বুকে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপদ-আপদ আসে, তা সবই আমি কিতাবে অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে জগৎ সৃষ্টির আগেই লিখে দিয়েছিলাম। পৃথিবীর বুকে সংঘটিত বিপদ-আপদ বলে দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, ফসলহানি, বাণিজ্যে ঘাটতি, ধন-সম্পদ বিনষ্ট হওয়া, বন্ধু-বান্ধবের মৃত্যু ইত্যাদি এবং ব্যক্তিগত বিপদ-আপদ বলে সর্বপ্রকার রোগব্যাধি, ক্ষত, আঘাত ইত্যাদি বোঝানো হয়েছে। এককথায় বলতে গেলে, আসমান-জমিন সৃষ্টি থেকে শুরু করে মহান আল্লাহর সব সৃষ্টির সব তথ্যই মহান আল্লাহ লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। একবার ইয়েমেনের কিছু লোক রাসুল (সা.)-এর কাছে দ্বিন সম্পর্কে জানতে এলে তিনি তাদের বলেন, একমাত্র আল্লাহই ছিলেন, আর তিনি ছাড়া আর কোনো কিছুই ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির ওপরে। অতঃপর তিনি লাওহে মাহফুজে সব কিছু লিপিবদ্ধ করেন এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেন। (বুখারি,  হাদিস : ৩১৯১)

লাওহে মাহফুজের বিবরণ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু পাওয়া যায় না। তবে কিছু কিছু হাদিসে তার ব্যাপারে কিঞ্চিৎ ধারণা পাওয়া যায়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, লাওহে মাহফুজ সাদা মুক্তার তৈরি। তার দৈর্ঘ্য আসমান-জমিন সমান। প্রস্থ পূর্ব-পশ্চিম সমান। তার দুই পার্শ্বদেশ মুক্তা ও ইয়াকুত পাথরের, তার দুই কিনারা লাল ইয়াকুতের। তার কলম নুরের এবং তার উপরাংশ আরশের সঙ্গে সম্পৃক্ত, নিম্নাংশ ফেরেশতার ওপর। (তাফসিরে কুরতুবি)

ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অন্য একটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, ‘আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজকে এক শ বছরের দূরত্বের পথ সমান সৃষ্টি করেছেন।’ (আদ্দুররুল মানসুর : ১৫/৩৪৫)

উপরোক্ত বর্ণনাগুলো থেকে আমরা লাওহে মাহফুজ সম্পর্কে যে ধারণা পাই, তা দ্বারা বোঝা যায়, লাওহে মাহফুজ আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বড়। আল্লাহর এই সৃষ্টির যথাযথ বিবরণ দেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host