পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বুধবার রাতে পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজারে আওয়ামী লীগের এক পলাতক নেতার গোডাউনে সার মজুতের অভিযোগে বিক্ষোভ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পুলিশের কর্মকর্তারা।
ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নেতার গোডাউনসহ তিনটি গোডাউনে অভিযান চালানো হলে বিপুল পরিমাণ সার মজুত পাওয়া যায়। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান দাবি করেছেন, উপজেলায় সারের কোনো সিন্ডিকেট নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ডিলারদের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত সার পাচ্ছিলেন না উপজেলার কৃষকেরা। এতে তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক হুমায়ুন কবির মুন, সদস্য সচিব লিখন সরকার ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল রানা পিন্টুর নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ভাঙ্গুড়া বাজারে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাতক ইবনুল হাসান শাকিলের গোডাউনে সার মজুত রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান এবং ভাঙ্গুড়া থানার ওসি শাফিউল আযম। পরে ওই আওয়ামী লীগ নেতার গোডাউনসহ আরো দুটি সারের গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনটি গোডাউনেই বিপুল পরিমাণ সার মজুত পাওয়া যায়।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হুমায়ুন কবির মুন সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, কৃষকেরা সার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। অথচ সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে সরকারবিরোধী পলাতক গোষ্ঠী।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, গুদামগুলোর এসব সার চলতি সপ্তাহে সংরক্ষণ করা হয়েছে। উপজেলার খানমরিচ, দিলপাশার ও ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকার কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সারগুলো বিতরণের জন্য মজুত রাখা হয়েছিল, যা বিক্ষোভকারী ছাত্রদল নেতারাও জানেন।
তিনি আরো বলেন, এসব সার শিগগিরই কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, উপজেলায় সারের কোনো সিন্ডিকেট নেই।