জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালত অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম।
অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য এদিন মতিউর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন।
এরপর মতিউর রহমানের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। দুদকের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
এর আগে গত ২১ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে বিচারক ছুটিতে থাকায় সেদিন কোনো আদেশ হয়নি। পরে ৩ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন মতিউর রহমানকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হলেও বিচারকের অনুপস্থিতির কারণে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। পরে হাজতখানায় রাখার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে নিজ নামে সম্পদ গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক। এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ইফাতকে মতিউর রহমানের ছেলে বলে দাবি করা হলে বিষয়টি দেশজুড়ে ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সম্পদ নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে থাকে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে ২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
অনুসন্ধানে তাদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব জব্দ বা ক্রোক করা হয়।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এখন মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারপর্বে প্রবেশ করেছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।