পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর বাজারে এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে শিয়ালের মাংস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত কসাই। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এই ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আবদালপাড়ার মাংস বিক্রেতা আশু কসাইয়ের ছেলে আশরাফুল কসাই বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে একটি শিয়াল শিকার করে। পরে সেই শিয়াল জবাই করে মাংস নিয়ে হরিপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গরুর মাংস হিসেবে ৭০০ টাকা কেজি দরে একজনের কাছে ২ কেজি মাংস বিক্রিও করেন আশরাফুল।
লোকজন জানাজানি হওয়ায় অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে আশরাফুল কৌশলে শিয়ালের মাংস নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে হরিপুর বাজারের অদূরে ধুলাউড়ি আক্কাসের জোলার মাংস ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী চাটমোহর থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জানান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন কুমার সরকার ও থানার এসআই কামরুজ্জামান উপজেলঅ নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরীর কাছে এলাকাবাসীকে নিয়ে যান। কিন্তু অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা না নিয়ে ইউএনও থানায় নিয়মিত মামলা করার জন্য নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ স্বপন কুমার সরকার বলেন.‘‘অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও মহোদয়কে জানানো হয়।আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিয়ালের মাংস বিক্রির সত্যতা পেয়েছি। পুলিশ এ ব্যাপারে নিয়মিত মামলা করে ব্যবস্থা নেবেন।” থানার এসআই কামরুজ্জামান বলেন,‘বিষয়টি আমাদের জানানোর পর আমরা ঘটনাস্থলে যাই। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ইউএনও স্যারকে জানানো হয়। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন।
চাটমোহর থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান,পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিয়ালের মাংস বিক্রির সত্যতা পেয়েছে। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন,ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ বিভিন্নস্তরের ব্যক্তিকে ম্যানেজ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে অভিযুক্ত পক্ষ।
অভিযুক্ত আশরাফুল কসাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি নাকি পলাতক রয়েছেন। তবে এলাকাবাসী জানান,আশরাফুল এলাকাতেই রয়েছে। এলাকাবাসী আরো জানান,ইতোপূর্বেও আশরাফুল পাবনা ও বড়াইগ্রামের বিভিন্ন হোটেলে মরা গরুর ও শুকুরের মাংস বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। এলাকাতে মরা ছাগলের মাংস বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে এলাকাবাসীর হাতে। বারবার জরিমানা দিয়ে মাফ চেয়ে পার পায়। এবারও একই ঘটনা ঘটিয়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়,চাটমোহর ও পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অসুস্থ ও মরা গরুর মাংস বিক্রির সিন্ডিকেট এখন সক্রিয়। গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র পশু কবাই করা হচ্ছে। সেগুলেঅ দোরছে বিক্রি চলছে। কসাইরা ক্রেতাদের অজান্তেই এসকল অপরাধ করে চলেছে। এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।