আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক প্রশ্নে জবাবে বললেন, ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ফাঁসির আসামি হওয়ায় দেশে চৌহদ্দিতে ঢ়ুকলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তিনি দেশে আসতেই পারেন। তবে তিনি কোন প্রক্রিয়ায় দেশে আসবেন সেটা তার বিষয়। দেশে ঢোকার পর তার বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও এসময় জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তিনি কীভাবে আসবেন, সেটা তার বিষয়। কিন্তু আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে প্রবেশ করলে আইন আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
আইনমন্ত্রী জানান, “সংবিধানে আছে রাষ্ট্রপতি যেদিন পদত্যাগ করবেন তার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। প্রশ্ন এসেছিলো আমরা বিশেষ অধিবেশন ডাকবো কি-না? ৯০ দিন যেহেতু সময় আছে আর আমাদের পরবর্তী অধিবেশন ৬০ দিনের মধ্যে, দুটি টাইমই যেহেতু ম্যাচ করছে, সেহেতু বিশেষ অধিবেশনের আপাতত প্রয়োজন দেখছি না।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
তিনি বলেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনও সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তাই আপাতত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা সরকার দেখছে না। তবে প্রয়োজনে সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে।
মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর সাম্প্রতিক এক মন্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ এলে সরকার তা উপেক্ষা করবে না। তিনি বলেন, তারা যদি কোনো পর্যবেক্ষণ বা অভিযোগ করে থাকেন, তাহলে আমাদের দায়িত্ব সেটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করা। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব এবং প্রয়োজনীয় দিকগুলো খতিয়ে দেখব।
এর আগে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) ব্র্যাকের এই সমঝতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।