বিনানুমতিতে সৌদি আরব অবস্থান করছেন ভাঙ্গুড়ার প্রধান শিক্ষক!
ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সৌদি আরব অবস্থান করছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সাইদুর রহমান।
জানাগেছে,তিনি সারা বছর হাজী সংগ্রহ করেন এবং হজ্ব মৌসুমে সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তিনি একটানা কমপক্ষে ৪৫ দিন অবস্থান করেন। এর আগে একাধিকবার তিনি সৌদি আরব গেছেন। গত বছরও হজ্বের সময় তিনি সৌদি আরব অবস্থান করেন। এবছর তিনি আবার সৌদি আরব গেছেন। এজন্য কর্তৃপক্ষ বা ম্যানেজিং কমিটির কোনো প্রকার অনুমতি নেননি । ফলে বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এরিয়ার অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন ছুটি ছাড়া একজন প্রধান শিক্ষক কতবার হজ্ব যেতে পারেন এবং বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে পারেন?
আবু ওবায়েদ নামের একজন অভিভাবক বলেন, উক্ত প্রধান শিক্ষক একটা হজ্ব এজেন্সির প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন এবং চুক্তিভিত্তিক কমিশনে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ লাভ করেন। এজন্য বছরের অন্যান্য সময়ও তিনি কর্মস্থলে ঠিকমত থাকেননা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( এসি ল্যান্ড) একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঐ প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান একটি হজ্ব এজেন্সির মোয়াল্লেম হিসেবে কাজ করেন। এবছর সাইদুর রহমান ১৮ জন হাজীর কাফেলা নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল সৌদি আরব গিয়েছেন। ওই এজেন্সি থেকে হাজী প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা তিনি কমিশন পান। অথচ এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ ধারা অনুযায়ী একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি বা বেসরকারি অন্য কোন প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগ করলে এমপিও বাতিল সহ শাস্তির বিধান রয়েছে। এরপরেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতসহ হজ্ব কাফেলার সাথে থেকে বিদ্যালয়ের অপূরনীয় ক্ষতি সাধন করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সাইদুর রহমানের ফোনে কল করলে তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে সানি রিসিভ করে বলেন, বাবা দেশে নাই, হজ্বে গেছেন। তিনি বলেন, বাবার সাথে এজেন্সির ঝামেলা হয়েছে। তাই প্রথম পর্যায়ে ১৮ জন হাজী নিয়ে হজ্বে গেছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক এর আগেও হজ্বে গেছেন। কোন রেজুলেশন না করে আমাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। কবে ফিরবেন জানিনা।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান হজ্বে গিয়েছেন কিনা আমি জানিনা। হজ্বে যাওয়ার আগে অবশ্যই ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসাবে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও’র কাছ থেকে ছুটি নেয়া উচিত ছিল। তবে হজ্বের জন্য একবার তিনি ছুটি নিতে পারবেন,অবশ্যই বার বার নয়।
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এসি ল্যান্ড মিজানুর রহমান বলেন, এর আগে তিনি হজ্বে গিয়েছিলেন কিনা আমার জানা নাই। হজ্বে যাওয়ার জন্য ওই প্রধান শিক্ষককে ছুটি দেওয়ার দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের। তাই আমি ছুটি দেইনি। তবে হজ্বে যাওয়ার আগের দিন একটি ছুটির আবেদন তিনি অফিসে রেখে গেছেন, ওটা পাশ করা হয়নি।
সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হজ্বে যেতে শিক্ষকদের ছুটির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন লাগে না। এটা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন করেন। তবে ওই শিক্ষক হজ্ব এজেন্সিতে চাকরি করেন কিনা খোঁজ নিয়ে দেখবো। কারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্য কোন চাকরি করার সুযোগ নেই।