1. admin@ddnnewsbd.com : admin : ddn newsbd
  2. mamahbubulalom@gmail.com : mahbubul alom : mahbubul alom
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

পাবনা-৪, বিদ্রোহী প্রার্থী পিন্টুতে শঙ্কায় হাবিব

ডিডিএন নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ০ সময় দর্শন

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির ভেতরের কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থী ও দীর্ঘদিনের দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে অস্বস্তিতে পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। এই অভ্যন্তরীণ সংকট বিএনপির নির্বাচনি হিসাব-নিকাশকে জটিল করে তুলেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার এবং তার সমর্থকদের একটি বড় অংশ এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন না। উল্টো তাদের সমর্থনে প্রভাবশালী নেতা জাকারিয়া পিন্টু দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ কারণে বিএনপি নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তি ও শঙ্কা। সঙ্গে যোগ হয়েছে জয়-পরাজয়ের জটিল সমীকরণ।

বিপরীতে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কর্মিসমাবেশ, উঠান বৈঠক, ভোট প্রার্থনা ও গণসংযোগে তার শিবিরে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। কমিটিবিহীন অবস্থাতেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দলটি। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

এ কারণে জাকারিয়া পিন্টুকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর দলীয় পদ প্রত্যাশী কয়েকজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ ছেড়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ শুরু করলেও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারের নেতৃত্বে বিএনপির একটি বড় অংশ এখনো নির্বাচনি প্রচার থেকে দূরে রয়েছে।

ন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথার নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর মোটরসাইকেল প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে।

সূত্র জানায়, এক পর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর প্রচার কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আবার মাঠে নামায় তার নির্বাচনি শিবির নতুন করে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক, ভোট প্রার্থনা, গণসংযোগ ও নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনের মাধ্যমে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির ভেতরে দুজন শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। অতীতে সিরাজুল ইসলাম সরদার ও হাবিবুর রহমান হাবিবের মধ্যকার গ্রুপিংয়ের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু বারবার বিজয়ী হয়েছেন। এবার একদিকে সেই বিভক্তি, অন্যদিকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের জনপ্রিয়তা থাকায় তার বিজয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই।

এ বিষয়ে জাকারিয়া পিন্টুর নির্বাচনি প্রচারের অন্যতম সমন্বয়ক মেহেদী হাসান বলেন, ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ায় আগামী দিনের বিএনপির নেতৃত্ব কে দেবেন, তা জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন। আমরা ধানের শীষের বিপক্ষে নই। কিন্তু এবার ধানের শীষ একজন স্বৈরাচারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু বলেন, দলীয় হাইকমান্ড তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে আমি বিজয়ী হব—দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের স্থানীয় প্রায় ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী তার পক্ষে কাজ করছেন।

তবে এই দাবি নাকচ করে ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাহাবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, ততই নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর শিবির ছেড়ে ধানের শীষের পক্ষে যোগ দিচ্ছেন। এখন ঈশ্বরদী পৌর ও উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেউ নেই।

ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মূল কারিগর সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার। তিনি নিজে প্রচারে না নামলেও তার লোকজনকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করাচ্ছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host