ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধের কারখানায় অভিযানে উৎপাদনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ! তথ্য প্রদানকারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় থানায় অভিযোগ!
ভাঙ্গুড়া(পাবনা)প্রতিনিধি :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেও নকল দুধ উৎপাদন বন্ধ করা যাচ্ছেনা বরং প্রস্তুতকারীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে| প্রশাসনকে তথ্য প্রদানকারীদের প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে | আজ রবিবার বিকালে উপজেলার ছোটবিশাকোল গ্রামের লিখন আদনান নামের এক যুবক এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন |
জানাগেছে,ভাঙ্গুড়া উপজেলায় অন্তত: ৩০টি দুধের কারখানা বা চিলিং সেন্টার রয়েছে| এগুলোর মধ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের কারখানায় গরু ছাড়াই আসল দুধ উৎপাদন করছে | যা পুরোপুরি নকল | উপজেলা প্রশাসন এরকম কয়েকটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে জানতে পারে যে, গ্লুকোজ জেলি,সয়াবিন তেল,চিনি ও পানি মিশ্রিত করে উৎপাদন করা হয় নকল দুধ | এই দুধ বিক্রি করে কয়েকগুণ লাভ হওয়ায় তারা দেদারছে তৈরি করছে|
সম্প্রতি উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশারের কারখানায় অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ গ্লুকোজ জেলি ও সয়াবিন তেল জব্দ করার পর গাভী ছাড়া দুধ তৈরির রহস্য উন্মোচিত হয়| গত বৃহস্প্রতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ছোট বিশাকোল গ্রামে সঞ্জয় ঘোষের কারখানার পাশের পুকুর থেকে ৬ ড্রাম গ্লুকোজ জেলি(৪৫০ কেজি) উদ্ধার করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক ধ্বংস করা হয় | এগুলো সঞ্জয় ঘোষ নকল দুধ তৈরির জন্য এনেছিলেন বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেন | তবে ঐ সময় কারখানা বন্ধ ছিল এবং সঞ্জয় ঘোষকে না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুসরাত জাহান জানান|
এদিকে জেলির ড্রাম পুকুরে ডুবিয়ে রাখার তথ্য প্রশাসনকে প্রদান করায় ছোট বিশাকোল গ্রামের মুনছুর রহমানের ছেলে লিখন আদনানকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে | আজ রবিবার বিকালে তিনি থানায় অভিযোগ দেন | ভাঙ্গুড়া থানার ডিউটি অফিসার এ.এস.আই সিরাজুল ইসলাম অভিযোগটি গ্রহনের কথা স্বীকার করেছেন|
লিখন আদনান জানান, গ্লুকোজ জেলি,সয়াবিন তেল,পানি ও চিনি মিশ্রিত করে একটি চক্র বিভিন্ন কারখানায় নকল দুধ তৈরি করে গাভীর আসল দুধ বলে বাজারে বিক্রি করছে বলে তিনি শুনেছেন | সঞ্জয় ঘোষের কারখানার পাশেই পুকুরে জেলির ড্রামগুলো দেখতে পেয়ে তিনি ভিডিও ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছেড়েছিলেন | পরে উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান পরিচালনা করায় তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে এবং নানা প্রকার হুমকি-ধামকিসহ মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে | লিখন আরো জানান, সঞ্জয় ঘোষের কারখানায় পুর্বেও অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির জন্য তাকে জরিমানা করা হয়েছে |
ছোট বিশাকোল গ্রামের কামরুজ্জামান চঞ্চল নামের একজন প্রধান বলেন,নকল দুধ উৎপাদন প্রতিরোধে গ্রামবাসীকে নিয়ে শনিবার রাতে মিটিং করা হয়েছে | এখন থেকে সঞ্জয় ঘোষের কারখানার প্রতি নজর রাখা হবে যাতে তিনি নকল দুধ প্রস্তুত করতে না পারেন |
উপজেলা লাইভস্টক অফিসার ডা: নাহিদ সুলতান বলেন,ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন খামারে উৎপন্ন দুধের মান খুব ভালো | এজন্য এখানকার মিষ্টি,ঘি,মাখন ও দই সুস্বাদু | তবে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী লোভে পড়ে নকল দুধ উৎপাদনে ঝুঁকে পড়েছেন| তিনি বলেন,এই উপজেলায় বেসরকারি উদ্যোগে ৩০টি দুধ কারখানা বা চিলিং সেন্টার রয়েছে | তারা ‘‘কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর” থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন|
কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর পাবনার উপ-মহাপরিদর্শক শেখ আসাদুজ্জামান জানান, এই অধিদপ্তর কেবল কারখানার নাম,কর্মচারী ও পদ-পদবীর বিপরীতে লাইসেন্স দিয়ে থাকে | ভাঙ্গড়ায় ২০টি অনুমোদিত কারখানা রয়েছে। তবে প্রডাক্টের মান তদারকি করা তাদের দায়িত্ব নয়|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ বলেন,শিশু খাদ্য হিসাবে নকল দুধ উৎপাদন করা মারাত্নক অপরাধ | এজন্য প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে | বিভিন্ন কারখানা থেকে দুধের স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে | যার বাড়ি বা কারখানায় নকল দুধ উৎপাদনের প্রমাণ মিলবে তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে | এছাড়া ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসায় সততার মনোভাব সৃষ্টি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে মসজিদের খুৎবায় প্রচারণা শুরু করা হয়েছে ||
ফটো ক্যাপশন: ভাঙ্গুড়া: উপজেলার ছোট বিশাকোল গ্রামে সঞ্জয় ঘোষের কারখানার পাশের পুকুর থেকে নকল দুধ তৈরির ৬ ড্রাম জেলি উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়||