পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮৯তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা মেতেছিল নিজেদের ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখানোর উৎসবে। সেই সঙ্গে দিনটি ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ভিন্নধর্মী নানা আয়োজনে সাজানো হয়েছিল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি। এতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে। বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠ সাজানো হয়েছিল সুন্দরভাবে। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দর্শকদের আনন্দে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
এছাড়াও ৫৪তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পাবনা জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সিনিয়র প্রভাষক মো. লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ শওকত রেজা। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আনন্দে উপভোগ করেন দর্শকেরা। বিকেলে প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ক্রীড়া পরিচালনায় ছিলেন সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মো. হেদায়েতুল্লাহ।
চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নুরুজ্জামান সবুজ মাষ্টার বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে। সব অভিভাবকের উচিত সন্তানকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করানো। এতে শিক্ষার্থীদের মন প্রফুল্ল থাকার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশও নিশ্চিত হবে।
সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ শওকত রেজা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরি করতে দরকার ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত চর্চা। এর ফলে শিশুরা মনের দিক থেকে চাঙা থাকার পাশাপাশি মাঠে এসে খেলার কারণে শারীরিকভাবেও ফিট থাকবে। সার্বিকভাবে, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য এক আনন্দময় ও স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।’