রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (RUAA) পুনর্মিলনী ও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) উপলক্ষে পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণ এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ড. ইদ্রিস আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন RUAA-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আবু সালেহ মোঃ আব্দুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান ও উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ। সভা সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু সালেহ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশ গঠন, জ্ঞানচর্চা ও নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধন ও স্মৃতি মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও সাবেক শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন নয়; বরং জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে অবদান রাখা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারেন। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. ইদ্রিস আলম বলেন, পাবনা জেলা শাখাকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পুনর্মিলনী ও এজিএমকে সফল করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সংগঠনের ধারাবাহিক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করাই এ সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
সভা সঞ্চালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধ তৈরি করে। সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা ও সামাজিক উন্নয়নে অ্যালামনাই সদস্যদের সম্মিলিত ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।